পাওনা অর্থ নিয়ে আট বছরের বিরোধ, সংবাদ প্রকাশের পর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় পাওনা অর্থ পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে বিরোধ চলার অভিযোগ উঠেছে রহিম ওরফে লাম্বু রহিমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী আজিম মিয়ার দাবি, একাধিকবার অনুরোধ, আলোচনা ও সালিশি বৈঠকের পরও তিনি তার পাওনা অর্থ বুঝে পাননি।
আজিম মিয়ার অভিযোগ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কয়েকটি সালিশ বৈঠকে পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও রহিম তা বাস্তবায়ন করেননি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, পাওনা অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগী ও সংবাদ সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আজিম মিয়ার দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ঊর্ধ্বতন মহলে জানাজানি হলে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী টিপু সুলতানকে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে হাজী টিপু সুলতান তার সহকারী সোহাগকে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেন।
আজিম মিয়ার অভিযোগ, সোহাগ বিষয়টি নিয়ে রহিম ওরফে লাম্বু রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওনা অর্থের বিষয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এ সময় তিনি আজিম মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার কথা বলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, পাওনা অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে থানায় অভিযোগের ভয় দেখিয়ে তাকে এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের মানসিকভাবে চাপ দেওয়া ও হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রহিম ওরফে লাম্বু রহিম অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি একসময় সোনাইমুড়ী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন বিতর্কের পর সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একই কার্যালয়কে ঘিরে অর্থ লেনদেনে অনিয়ম এবং সেখানে অবৈধ জুয়ার আসর বসার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে রহিম ওরফে লাম্বু রহিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং পাওনা অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী



















