সর্বশেষ
বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত শার্শার বেনাপোল দিয়ে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী কাজিপুরে থানা চত্বরে মদসহ গ্রেফতার ১ জন পুলিশের পৃথক চলমান অভিযানে শার্শা ও ডিহি থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেত্রকোণায় নাজু হত্যায় নুরুল আমিনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক দুই মেম্বারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার শেরপুরের পাহাড়-বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক বিজেসির ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা-মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের ডাক শার্শায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন নিয়ে ফের প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশলে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারি নিবন্ধনবিহীন বলে অভিযোগ থাকা তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ (হিট) ফাউন্ডেশনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির তথাকথিত চেয়ারম্যান নুরুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও তিনি ভিন্ন কৌশলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অতীতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংগঠনটির কার্যক্রম, অর্থ লেনদেন এবং পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া সিলেটের এনামুল হক চৌধুরীকে ৪১ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় আসে বলে তারা উল্লেখ করেন। এরপর কিছুদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি একটি টিকটক আইডিতে নিজেকে “সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী” পরিচয়ে উপস্থাপন করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পূর্ববর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতে নুরুল্লাহ আল আমিনের সাংবাদিকতা কিংবা মানবাধিকার কর্মী হিসেবে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের আত্মপরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হাওলাত, সদস্য কার্ড, গেঞ্জি, ক্রেস্ট, চাকরির প্রলোভন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। পাওনাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সময়ক্ষেপণ ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন নামে পরিচালিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, যেগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো বর্তমানে বন্ধ বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। দেশের বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), লিখিত অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আব্দুর রহিম রনি নামে এক ব্যক্তি, যিনি বিভিন্ন সময় “মুশফিকুর রহিম রনি” পরিচয় ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের মতে, ফেসবুকে সমালোচনা ও অভিযোগ বাড়তে থাকায় এখন ভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পুনরায় কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে। তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
(উল্লেখ্য, উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন নিয়ে ফের প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশলে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি নিবন্ধনবিহীন বলে অভিযোগ থাকা তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ (হিট) ফাউন্ডেশনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির তথাকথিত চেয়ারম্যান নুরুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও তিনি ভিন্ন কৌশলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অতীতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংগঠনটির কার্যক্রম, অর্থ লেনদেন এবং পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া সিলেটের এনামুল হক চৌধুরীকে ৪১ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় আসে বলে তারা উল্লেখ করেন। এরপর কিছুদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি একটি টিকটক আইডিতে নিজেকে “সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী” পরিচয়ে উপস্থাপন করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পূর্ববর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতে নুরুল্লাহ আল আমিনের সাংবাদিকতা কিংবা মানবাধিকার কর্মী হিসেবে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের আত্মপরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হাওলাত, সদস্য কার্ড, গেঞ্জি, ক্রেস্ট, চাকরির প্রলোভন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। পাওনাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সময়ক্ষেপণ ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন নামে পরিচালিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, যেগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো বর্তমানে বন্ধ বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। দেশের বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), লিখিত অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আব্দুর রহিম রনি নামে এক ব্যক্তি, যিনি বিভিন্ন সময় “মুশফিকুর রহিম রনি” পরিচয় ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের মতে, ফেসবুকে সমালোচনা ও অভিযোগ বাড়তে থাকায় এখন ভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পুনরায় কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে। তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
(উল্লেখ্য, উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।)