ডিবিসির প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুললেন যমুনা লাইফের সিইও অজিত চন্দ্র আইচ ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা নেই, সব কিছুর নথি রয়েছে
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ডিবিসি নিউজে সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অজিত চন্দ্র আইচ। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি মহলের অপপ্রচারের অংশ। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে প্রয়োজনীয় লিখিত নথিপত্র রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অজিত চন্দ্র আইচের সঙ্গে কথা হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি তার দীর্ঘ কর্মজীবন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে ওঠা অভিযোগ এবং যমুনা লাইফের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
অজিত চন্দ্র আইচ বলেন, তিনি প্রায় ৩৯ বছরের কর্মজীবনে বিভিন্ন জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর করে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিয়ে বিদায় নিয়েছেন।
সোনালী লাইফে অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে সিইও থাকাকালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে অজিত চন্দ্র আইচ বলেন, তিনি ১৫ জুলাই ২০১৩ থেকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি দাবি করেন, তার দায়িত্বকালেই প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায় এবং গ্রাহকদের জন্য বোনাস ও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, “আমি ৩০ জুন ২০২০ তারিখে সোনালী লাইফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিই। এরপর ১ জুলাই ২০২০ আইডিআরএর অনুমোদনক্রমে প্রগ্রেসিভ লাইফে যোগদান করি।”
তার দাবি, ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারির একটি চেকে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও ওই সময় তিনি সোনালী লাইফে কর্মরত ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইডিআরএকে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলেও জানান।
প্রগ্রেসিভ লাইফের ১০ লাখ টাকা প্রসঙ্গে
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে দায়িত্ব পালনকালে ১০ লাখ টাকা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন অনুযায়ী তাকে উৎসব বোনাস দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “পরবর্তীতে আইডিআরএর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি বেতন থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। এ বিষয়ে আমার কাছে লিখিত প্রমাণ রয়েছে।”
সন্ধানী লাইফে দায়িত্ব পালন
সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে অজিত চন্দ্র আইচ বলেন, তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর সেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। পরিচালনা পর্ষদের ছাড়পত্র নিয়েই আমি পরবর্তী প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি।”
যমুনা লাইফের উন্নয়ন পরিকল্পনা
যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদ তাকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ সিইও হিসেবে অনুমোদনের জন্য আইডিআরএতে আবেদন করা হয়।
তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে কাস্টমার কেয়ার ও কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। ডিজিটাল অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইআরপি সফটওয়্যার চালু, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানো, দুর্বল শাখা পুনর্গঠন এবং গ্রাহকদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, কর্মী ও কর্মকর্তাদের অর্থ ইএফটিএনের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির লক্ষ্য
যমুনা লাইফ কবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে অজিত চন্দ্র আইচ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম উন্নয়ন ও লাইফ ফান্ড শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, “সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের শুরুতে যমুনা লাইফকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে লিখিত প্রতিক্রিয়ায় সোনালী লাইফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেক সংক্রান্ত বিষয়টি তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ বিন আমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
আইডিআরএর লাইফ মেম্বার আপেল মাহমুদ বলেন, সোনালী লাইফের চেক সংক্রান্ত বিষয়টি আইডিআরএর নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আশা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে অজিত চন্দ্র আইচ তার বক্তব্যের সমর্থনে বিভিন্ন নথিপত্র, পরিচালনা পর্ষদের ছাড়পত্র এবং অর্থ পরিশোধের কাগজপত্র প্রদর্শন করেন।
বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।



















