সর্বশেষ
লালমনিরহাটে উজ্জল মিয়ার হত্যার বিচার ও প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কবিতা— অর্ধাঙ্গিনী কবি—এম, এইচ রশিদ নরোত্তমপুরে ফেক আইডি ও অপপ্রচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক। যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি গাইবান্ধায় জমি দখল নিয়ে নৃশংস হামলা: নারীসহ আহত ৩, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বেনাপোলের সাংবাদিক বাংলা টিভির প্রতিনিধি সেন্টু’র ওপর সন্ত্রাসী হামলা বীরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ফেক আইডির আড়ালে অপপ্রচার: মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কার স্বার্থ রক্ষা? কাজিপুরে মডেল বিদ্যালয় চালান ১ জন শিক্ষক! নেত্রকোনায় সম্মিলিত মানবাধিকার জোটের সাংগঠনিক উন্নয়ন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে তরুণীর আত্মহত্যা!

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ মানসিক নির্যাতনের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের একটি থানায় ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতে থাকাকালে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই তরুণী।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১২ জুলাই) রাতে। পুলিশ সূত্র জানায়, কোন একটি মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কারণে তরুণীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে তিনি হঠাৎ করেই বিষপান করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও হেফাজতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,

“পুলিশি হেফাজতে থাকাকালে কীভাবে বিষ খাওয়ার মতো জিনিস সঙ্গে রাখলেন ওই তরুণী?”
“নাকি বিষ সরবরাহ করা হয়েছিল, না হয় আগেই আনা হয়েছিল—পুলিশ তা জানলো না কেন?”

তরুণীর পরিবার দাবি করছে, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছিল। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

তরুণীর ভাই বলেন,

“ওর বিরুদ্ধে কোনো বড় অভিযোগ ছিল না। অথচ পুলিশ এমনভাবে চেপে ধরেছিল, ও সহ্য করতে পারেনি।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,

“হেফাজতে থাকা একজন মানুষ আত্মহত্যা করলে এর দায় পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্ন তোলে।”

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে তরুণীর আত্মহত্যা!

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ মানসিক নির্যাতনের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের একটি থানায় ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতে থাকাকালে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই তরুণী।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১২ জুলাই) রাতে। পুলিশ সূত্র জানায়, কোন একটি মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কারণে তরুণীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে তিনি হঠাৎ করেই বিষপান করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও হেফাজতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,

“পুলিশি হেফাজতে থাকাকালে কীভাবে বিষ খাওয়ার মতো জিনিস সঙ্গে রাখলেন ওই তরুণী?”
“নাকি বিষ সরবরাহ করা হয়েছিল, না হয় আগেই আনা হয়েছিল—পুলিশ তা জানলো না কেন?”

তরুণীর পরিবার দাবি করছে, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছিল। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

তরুণীর ভাই বলেন,

“ওর বিরুদ্ধে কোনো বড় অভিযোগ ছিল না। অথচ পুলিশ এমনভাবে চেপে ধরেছিল, ও সহ্য করতে পারেনি।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,

“হেফাজতে থাকা একজন মানুষ আত্মহত্যা করলে এর দায় পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্ন তোলে।”

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।