সর্বশেষ
গাইবান্ধায় জমি বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলার অভিযোগ, নারীসহ আহত কয়েকজন ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আবেগঘন সুরে সংগীতাঙ্গনে এল স্পর্শিয়া পূরবীর মৌলিক গান ‘সখী’ ময়মনসিংহ জেলা মাসিক রাজস্ব সভায় শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ডকে সম্মাননা প্রদান ময়মনসিংহে স্কুল পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ দুই মাসে ৪৩ জনের কারাদণ্ড কাজিপুরে বিএনপির ১ নেতা বহিস্কার ৫ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ​যশোরে ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক

ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ দুই মাসে ৪৩ জনের কারাদণ্ড

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

 

মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জোরালো অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় গত দুই মাসে ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাদকসেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ৪৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যায়েদ হোছাইন পরিচালিত এসব মোবাইল কোর্টে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধলাপাড়া, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ঘাটাইল সদর, লোকেরপাড়া, দেউলাবাড়ী, দিঘলকান্দী, আনেহলা, দিগড় ও জামুরিয়া ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়।
দুই মাসের অভিযানে সবচেয়ে বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ধলাপাড়া ইউনিয়নের। এছাড়া সন্ধানপুর, রসুলপুর ও ঘাটাইল সদর ইউনিয়নেও একাধিক ব্যক্তি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে ১ মাস, ২ মাস, ৩ মাস, ৪ মাস, ৫ মাস, ৬ মাস, ৯ মাস, ১৫ দিন এবং সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যায়েদ হোছাইন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী কিংবা মাদক-সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধীর জন্য কোনো ধরনের ছাড় নেই। আমাদের এই অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে। পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু শাস্তি প্রদানই নয়, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি। প্রশাসনের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত ঘাটাইল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ দুই মাসে ৪৩ জনের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০২:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জোরালো অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় গত দুই মাসে ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাদকসেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ৪৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যায়েদ হোছাইন পরিচালিত এসব মোবাইল কোর্টে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধলাপাড়া, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ঘাটাইল সদর, লোকেরপাড়া, দেউলাবাড়ী, দিঘলকান্দী, আনেহলা, দিগড় ও জামুরিয়া ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়।
দুই মাসের অভিযানে সবচেয়ে বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ধলাপাড়া ইউনিয়নের। এছাড়া সন্ধানপুর, রসুলপুর ও ঘাটাইল সদর ইউনিয়নেও একাধিক ব্যক্তি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে ১ মাস, ২ মাস, ৩ মাস, ৪ মাস, ৫ মাস, ৬ মাস, ৯ মাস, ১৫ দিন এবং সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যায়েদ হোছাইন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী কিংবা মাদক-সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধীর জন্য কোনো ধরনের ছাড় নেই। আমাদের এই অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে। পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু শাস্তি প্রদানই নয়, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি। প্রশাসনের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত ঘাটাইল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।