কালিয়াকৈরে অনলাইন জুয়ার ঋণের বলি গৃহবধূ শম্পা! স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে রহস্যজনক মৃত্যু।
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
সংসারকে ঘিরে ছিল একগুচ্ছ স্বপ্ন, ভালোবাসা আর সুখের প্রত্যাশা। প্রায় ১০ বছর আগে সেই স্বপ্ন নিয়েই মো. মিরাজুল ইসলাম রাসেলের (৩২) হাত ধরেছিলেন শম্পা আক্তার। তাদের সংসারে আলো হয়ে আসে ৫ বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানও। কিন্তু স্বামীর অনলাইন জুয়ার নেশা, ঋণের বোঝা এবং শ্বশুরবাড়ির কথিত নির্যাতনের কাছে হার মানতে হলো শম্পাকে। এখন তার মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শম্পার স্বামী মো. মিরাজুল ইসলাম রাসেল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে তিনি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য শম্পাকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করা হতো। টাকা আনতে ব্যর্থ হলে তার ওপর নেমে আসত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরিবারের অভিযোগ, শুধু নির্যাতনই নয়, শম্পাকে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যা করতে উস্কানি ও প্ররোচনাও দেওয়া হতো।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার দিন রাতেও অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে শম্পাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরদিন ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে জামাতা রাসেল ফোন করে শম্পার বাবা মো. অহিদুজ্জামানকে জানান, শম্পা ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহম্মদ নগর চৌরাস্তা এলাকার ভাড়া বাসায় ছুটে গিয়ে শম্পার নিথর দেহ মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার গলায়, থুতনির নিচে এবং কানের পাশে স্পষ্ট কালচে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এতে তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মেয়েকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান বাবা মো. অহিদুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েটা বাঁচতে চেয়েছিল, কিন্তু ওরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে, অপবাদ দিয়েছে, টাকার জন্য চাপ দিয়েছে। আমার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।”
এদিকে, শম্পার ৫ বছর বয়সী শিশু সন্তানটি মায়ের মৃত্যুর পর থেকে নির্বাক হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
কালিয়াকৈর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বাবার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শম্পার এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজের কাছেও একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা আর পারিবারিক নির্যাতনের বলি হয়ে আর কত শম্পাকে প্রাণ দিতে হবে? এখন সবার অপেক্ষা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার



















