সর্বশেষ
এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ নওগাঁর বদলগাছীতে ভ্যানচালক মিঠু হত্যা: রহস্য উদঘাটনের দাবি, আটক ১ “প্রচলিত শিক্ষার বাইরে নতুন দিগন্ত: হালিশহরে সমন্বিত প্রজন্ম গঠনের মডেল” মাঠে খেলা, শেরপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা ও লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত

ইলিশ মিললেও নাগালের বাইরে দাম, জেলেদের আশা—সরবরাহ বাড়লে কমবে মূল্য

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলছে আশানুরূপ রুপালি ইলিশের। তবে মাছ ধরার পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাজারে ইলিশের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ, যারা ইলিশ ধরা ও খাওয়ার সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, তারাও এখন হা-হুতাশ করছেন উচ্চমূল্যের কারণে।

জেলেরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাঁচ দফায় খালি হাতে ফিরে আসতে হয় অনেক ট্রলারকে। ফলে হতাশায় পড়েন উপকূলের জেলেরা। তবে সর্বশেষ ৫ জুলাইয়ের পর থেকে বেশিরভাগ ট্রলার ফিরেছে বড় আকারের ইলিশ নিয়ে, যা কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে জেলেপল্লিতে।

বিসমিল্লাহ-১ ট্রলারের মাঝি এখলাস গাজী জানান, “দীর্ঘদিন পর মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার খালি হাতে ফিরেছি। এখন কিছু ট্রলার ইলিশ পেলেও অধিকাংশ এখনও শূন্য। সবাই মাছ পেলে দাম কমে আসবে।”

বর্তমানে বাজারে ইলিশের যে মূল্য, তা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ৭০-৭৫ হাজার টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১,২০০-১,৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৭০০-১,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জাটকা ইলিশও বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে।

আলীপুর বাজারে আসা মহিপুরের ক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান টুকু বলেন, “আমরা ইলিশের এলাকায় বসবাস করেও কিনতে পারছি না। দামের কারণে ইলিশ এখন শুধু ধনীদের খাবার হয়ে গেছে।”

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ১২২ মেট্রিক টন ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং জেলেদের ব্যবহৃত জ্বালানি, বরফ ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সব জেলে এখনও ইলিশ পাননি। সরবরাহ বাড়লে দাম অবশ্যই কিছুটা কমবে।”

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে সমুদ্রের উষ্ণতা কমে যাওয়ায় সব প্রজাতির মাছ উপকূলের দিকে চলে এসেছে। জেলেরা এখন ইলিশ পাচ্ছেন। সরবরাহ বাড়লে দামও সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইলিশ মিললেও নাগালের বাইরে দাম, জেলেদের আশা—সরবরাহ বাড়লে কমবে মূল্য

আপডেট সময় : ০৮:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলছে আশানুরূপ রুপালি ইলিশের। তবে মাছ ধরার পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাজারে ইলিশের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ, যারা ইলিশ ধরা ও খাওয়ার সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, তারাও এখন হা-হুতাশ করছেন উচ্চমূল্যের কারণে।

জেলেরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাঁচ দফায় খালি হাতে ফিরে আসতে হয় অনেক ট্রলারকে। ফলে হতাশায় পড়েন উপকূলের জেলেরা। তবে সর্বশেষ ৫ জুলাইয়ের পর থেকে বেশিরভাগ ট্রলার ফিরেছে বড় আকারের ইলিশ নিয়ে, যা কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে জেলেপল্লিতে।

বিসমিল্লাহ-১ ট্রলারের মাঝি এখলাস গাজী জানান, “দীর্ঘদিন পর মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার খালি হাতে ফিরেছি। এখন কিছু ট্রলার ইলিশ পেলেও অধিকাংশ এখনও শূন্য। সবাই মাছ পেলে দাম কমে আসবে।”

বর্তমানে বাজারে ইলিশের যে মূল্য, তা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ৭০-৭৫ হাজার টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১,২০০-১,৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৭০০-১,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জাটকা ইলিশও বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে।

আলীপুর বাজারে আসা মহিপুরের ক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান টুকু বলেন, “আমরা ইলিশের এলাকায় বসবাস করেও কিনতে পারছি না। দামের কারণে ইলিশ এখন শুধু ধনীদের খাবার হয়ে গেছে।”

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ১২২ মেট্রিক টন ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং জেলেদের ব্যবহৃত জ্বালানি, বরফ ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সব জেলে এখনও ইলিশ পাননি। সরবরাহ বাড়লে দাম অবশ্যই কিছুটা কমবে।”

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে সমুদ্রের উষ্ণতা কমে যাওয়ায় সব প্রজাতির মাছ উপকূলের দিকে চলে এসেছে। জেলেরা এখন ইলিশ পাচ্ছেন। সরবরাহ বাড়লে দামও সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে।”