সর্বশেষ
এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ নওগাঁর বদলগাছীতে ভ্যানচালক মিঠু হত্যা: রহস্য উদঘাটনের দাবি, আটক ১ “প্রচলিত শিক্ষার বাইরে নতুন দিগন্ত: হালিশহরে সমন্বিত প্রজন্ম গঠনের মডেল” মাঠে খেলা, শেরপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা ও লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত

ইবি শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্থায়ীভাবে বরখাস্ত, আনন্দে মুখর শিক্ষার্থীরা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। যৌন হয়রানি, সমকামিতার প্রস্তাব, ফল জালিয়াতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনসহ ২৭টি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসন তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের পর অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হওয়ায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আনন্দ মিছিল করেন। দুপুরে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান ও হাততালির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটি কেবল একটি জয় নয়, আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি। আমরা একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষা পরিবেশ ফিরে পেয়েছি।”

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ২৭টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামে। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট হয়ে স্থায়ী শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

শেষপর্যন্ত চলতি বছরের ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধির ৪(১)(এফ) ধারা অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে ৩১ মে ২০২৫ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “এটা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অপসারণ নয়— এটি আমাদের বিভাগের পবিত্রতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতীক।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইবি শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্থায়ীভাবে বরখাস্ত, আনন্দে মুখর শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। যৌন হয়রানি, সমকামিতার প্রস্তাব, ফল জালিয়াতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনসহ ২৭টি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসন তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের পর অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হওয়ায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আনন্দ মিছিল করেন। দুপুরে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান ও হাততালির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটি কেবল একটি জয় নয়, আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি। আমরা একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষা পরিবেশ ফিরে পেয়েছি।”

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ২৭টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামে। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট হয়ে স্থায়ী শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

শেষপর্যন্ত চলতি বছরের ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধির ৪(১)(এফ) ধারা অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে ৩১ মে ২০২৫ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “এটা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অপসারণ নয়— এটি আমাদের বিভাগের পবিত্রতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতীক।”