সর্বশেষ
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি নিখোঁজের তিন দিন পর জুলহাস (৫) নামে এক শিশুর ম’র’দে’হ উদ্ধার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ সর্প হয়ে দংশন, আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ফুঁক — বেগমগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আতঙ্কের আরেক নাম পলাশ মেম্বার! ঝিনাইদহ টিটিসিতে দক্ষতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মোঃ মুক্তাদির রহমান আগুনে নিঃস্ব হানিফ মিয়া, মানবিক সহায়তার আকুতি জনপ্রতিনিধির সমাজকে আলোকিত করতে আলেমদের ভূমিকা অনস্বীকার্য’: এমপি আজীজুর রহমান রাজধানীর ডেমরা কোনাপাড়া হাইওয়ে স্ট্যান্ডে ঘুষ বাণিজ্যের যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক নালিতাবাড়ীতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শিল্পপতি হাজী মো: ফরহাদ হোসেন উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

আগুনে নিঃস্ব হানিফ মিয়া, মানবিক সহায়তার আকুতি জনপ্রতিনিধির

মোহাম্মদ আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

এক মুহূর্তের আগুন কেড়ে নিলো একটি অসহায় পরিবারের সারাজীবনের সঞ্চয়, নিরাপত্তা আর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সেকান্তের বেপারী বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র হানিফ মিয়ার বসতঘর।

শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা আর অসহায় পরিবারের আহাজারি। এলাকাবাসী ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। চোখের সামনেই পুড়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কাপড়চোপড়সহ দৈনন্দিন জীবনের সবকিছু।

তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে যায় ঘরে থাকা ছোট ছোট শিশুরা। স্থানীয়রা জানান, আগুনটি যদি গভীর রাতে লাগতো, তাহলে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো। সেই আতঙ্ক এখনো তাড়া করে ফিরছে পরিবারটিকে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হানিফ মিয়া একজন সৎ, আদর্শবান ও নিঃস্ব মানুষ। অভাব-অনটনের মাঝেও সততা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ২ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সালে আহমেদ। তিনি বলেন,
“হানিফ মিয়া অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। নিজের ঘর পুনর্নির্মাণ করার মতো কোনো সামর্থ্য তার নেই। সবচেয়ে বড় কথা, আগুনের সময় ছোট ছোট শিশুরা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। গভীর রাতে আগুন লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। আমি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানাই—আপনারা এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।”

বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কাটছে হানিফ মিয়ার পরিবারের। মানবিক সহায়তা আর সামান্য সহযোগিতাই পারে একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতে।

এখন শুধু অপেক্ষা—সমাজের হৃদয়বান মানুষগুলো কি এগিয়ে আসবেন অসহায় এই পরিবারটির পাশে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আগুনে নিঃস্ব হানিফ মিয়া, মানবিক সহায়তার আকুতি জনপ্রতিনিধির

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

এক মুহূর্তের আগুন কেড়ে নিলো একটি অসহায় পরিবারের সারাজীবনের সঞ্চয়, নিরাপত্তা আর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সেকান্তের বেপারী বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র হানিফ মিয়ার বসতঘর।

শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা আর অসহায় পরিবারের আহাজারি। এলাকাবাসী ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। চোখের সামনেই পুড়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কাপড়চোপড়সহ দৈনন্দিন জীবনের সবকিছু।

তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে যায় ঘরে থাকা ছোট ছোট শিশুরা। স্থানীয়রা জানান, আগুনটি যদি গভীর রাতে লাগতো, তাহলে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো। সেই আতঙ্ক এখনো তাড়া করে ফিরছে পরিবারটিকে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হানিফ মিয়া একজন সৎ, আদর্শবান ও নিঃস্ব মানুষ। অভাব-অনটনের মাঝেও সততা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ২ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সালে আহমেদ। তিনি বলেন,
“হানিফ মিয়া অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। নিজের ঘর পুনর্নির্মাণ করার মতো কোনো সামর্থ্য তার নেই। সবচেয়ে বড় কথা, আগুনের সময় ছোট ছোট শিশুরা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। গভীর রাতে আগুন লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। আমি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানাই—আপনারা এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।”

বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কাটছে হানিফ মিয়ার পরিবারের। মানবিক সহায়তা আর সামান্য সহযোগিতাই পারে একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতে।

এখন শুধু অপেক্ষা—সমাজের হৃদয়বান মানুষগুলো কি এগিয়ে আসবেন অসহায় এই পরিবারটির পাশে