ইরানে গ্রেফতার ৭০০ ‘ইসরায়েলি ভাড়াটে’ যোদ্ধা
- আপডেট সময় : ০১:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
১২ দিনের সংঘর্ষে মোসাদের সক্রিয়তার প্রমাণ দাবি তেহরানের
ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি ও সশস্ত্র সহায়তার অভিযোগে ইরানে ৭০০ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) জানায়, গত ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে এসব ব্যক্তি ‘ইসরায়েলের ভাড়াটে সেনা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই গুপ্তচর নেটওয়ার্ক বা বিভিন্ন ‘বিদেশি অপারেশন’-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রদেশ—কেরমানশাহ, ইসফাহান, খুজেস্তান, ফার্স ও লোরেস্তানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
তবে রাজধানী তেহরানে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ ও মোসাদের স্বীকারোক্তি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান দাবি করেছে—এই গ্রেফতারি অভিযান আসলে ইসরায়েলের বহির্দেশীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ পরিচালিত ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে।
১৩ জুন, ইরানে ড্রোন হামলার পূর্ব মুহূর্তে মোসাদ তাদের ‘অভ্যন্তরীণ অপারেটিভদের’ ফুটেজ প্রকাশ করে, যেখানে ইরানের ভেতর থেকেই চালানো হামলার প্রস্তুতি দেখা যায়। এরপর থেকেই ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দমন অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্যারানোয়া, গৃহীত হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলো দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করেছে। সরকার ও সেনা গোয়েন্দা বিভাগে একধরনের ‘প্যারানয়েড নিরাপত্তা মনোভাব’ দেখা দিয়েছে।
সরকারের দাবি, শুধু সরাসরি যুদ্ধে নয়—অনলাইন মাধ্যমেও যারা ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ‘জনমানসে আতঙ্ক ও মানসিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইতোমধ্যে রাজধানী তেহরানে একটি বিশেষ প্রসিকিউশন ইউনিট গঠন করা হয়েছে, যারা দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে।
গুপ্তচরদের মৃত্যুদণ্ড ও তথ্য যাচাইয়ের প্রশ্ন
ফার্স নিউজ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি গুপ্তচরকে বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে এ তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি, এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধাবস্থায় জড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিক থেকেও ইরান এখন কঠোর মনোভাব নিয়েছে। ৭০০-এরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ শুধু গুপ্তচরবৃত্তি রোধ নয়, বরং বহির্বিশ্বকে একটি বার্তাও—যে ইরান তার ভেতরের নিরাপত্তা নিয়ে আপসহীন।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















