ট্রাম্পের বিতর্কিত ভিডিও: ‘বোম্ব ইরান’ গানে সাজানো বোমারু হামলার দৃশ্য, তীব্র সমালোচনার মুখে সাবেক প্রেসিডেন্ট
- আপডেট সময় : ০১:১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ২১৫ বার পড়া হয়েছে
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মিনিটের একটি উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ভিডিওটিতে যুক্ত ছিল মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের মাধ্যমে ইরানের উপর ডজন ডজন বোমা বর্ষণের দৃশ্য, সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যায় ‘বোম্ব ইরান’ নামে একটি প্যারোডি গান।
ভিডিওটি পোস্ট করা হয় ট্রুথ সোশ্যালে—ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে। গানটি মূলত বিচ বয়েজের বিখ্যাত ‘বারবারা অ্যান’ গানের সুরে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সংস্করণ। যেখানে ‘বারবারা অ্যান’ বদলে গাওয়া হয়েছে “বোম্ব ইরান, বোম্ব বোম্ব বোম্ব ইরান”। গানটির কিছু অংশে বলা হয়—
“বুড়ো আঙ্কেল স্যাম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে,
ইরানকে পার্কিং লটে পরিণত করার সময় এসে গেছে…”
এমন একটি সময়ে এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের নাতাঞ্জ, ফোর্দো ও ইসফাহান এলাকার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস আগেই জানিয়েছিল, সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে। অথচ ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এর আগেই হামলা হয়েছে।
এই আচমকা পদক্ষেপে ট্রাম্প মার্কিন রাজনীতিতেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সিনেটর ও বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ তুলেছেন, তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই যুদ্ধ-সদৃশ পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বোমা হামলার মতো একটি স্পর্শকাতর ও মানবিক ইস্যু নিয়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক গানের ব্যবহার অনুচিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। তারা এটিকে “একজন প্রেসিডেন্টের মর্যাদার পরিপন্থী আচরণ” বলেও অভিহিত করেছেন। সমালোচকরা আরও মনে করছেন, এই ভিডিও পোস্ট মূলত উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল এবং সমর্থকরা একে “ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন” হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আসন্ন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ট্রাম্প এভাবে নিজের ‘কঠোর নিরাপত্তা নীতি’ তুলে ধরতে চাইছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এমন কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক শান্তির জন্য হুমকি হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
















