সর্বশেষ
গাইবান্ধার খাদ্য গুদামে চরম অব্যবস্থা: নেই মেইন গেট, নিরাপত্তাহীনতায় ঝুঁকিতে সরকারি মজুত প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাবেন আজ কন্দর্পপুরে পার্থেনিয়াম আগাছা প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি লালমনিরহাটে উজ্জল মিয়ার হত্যার বিচার ও প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কবিতা— অর্ধাঙ্গিনী কবি—এম, এইচ রশিদ নরোত্তমপুরে ফেক আইডি ও অপপ্রচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক। যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি গাইবান্ধায় জমি দখল নিয়ে নৃশংস হামলা: নারীসহ আহত ৩, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বেনাপোলের সাংবাদিক বাংলা টিভির প্রতিনিধি সেন্টু’র ওপর সন্ত্রাসী হামলা

হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট, চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশও

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ প্রতিবেদন:
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে—এমনই আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি এবং শিল্প খাতে।

ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে কৌশলগত এ প্রণালী বন্ধে অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক কমিটির সদস্য ইসমাইল কাওসারি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরব ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সিদ্ধান্তটি।

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশের গন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, যার অন্যতম বাংলাদেশ। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলেই জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশের আমদানি নির্ভরতা এই প্রণালীর উপর বেশ প্রকট। আরপিজিসিএলের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত কাতার ও ওমান থেকে ৪৮৭টি এলএনজি কার্গো এসেছে, যার ৮০ শতাংশই এসেছে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই ৫৬ কার্গোর মধ্যে ৪৬টি এসেছে এই জলপথে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে সৌদি আরব বিকল্প জলপথ ব্যবহার করতে পারলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি সরবরাহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়বে। এতে বাংলাদেশের চাহিদার অন্তত অর্ধেক সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ জানান, যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি প্রবাহে বাধা আসে, তবে দেশের শিল্প, পরিবহন এবং গৃহস্থালি খাতে চরম সংকট দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে মাত্র এক সপ্তাহেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে দেশে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যাবে।

উপসংহার:
ভবিষ্যতে বড় জ্বালানি সংকট এড়াতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এখনই বিকল্প আমদানি রুট এবং জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা যে কতটা গভীরভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান উত্তেজনায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট, চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশও

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

সংবাদ প্রতিবেদন:
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে—এমনই আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি এবং শিল্প খাতে।

ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে কৌশলগত এ প্রণালী বন্ধে অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক কমিটির সদস্য ইসমাইল কাওসারি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরব ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সিদ্ধান্তটি।

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশের গন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, যার অন্যতম বাংলাদেশ। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলেই জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশের আমদানি নির্ভরতা এই প্রণালীর উপর বেশ প্রকট। আরপিজিসিএলের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত কাতার ও ওমান থেকে ৪৮৭টি এলএনজি কার্গো এসেছে, যার ৮০ শতাংশই এসেছে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই ৫৬ কার্গোর মধ্যে ৪৬টি এসেছে এই জলপথে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে সৌদি আরব বিকল্প জলপথ ব্যবহার করতে পারলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি সরবরাহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়বে। এতে বাংলাদেশের চাহিদার অন্তত অর্ধেক সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ জানান, যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি প্রবাহে বাধা আসে, তবে দেশের শিল্প, পরিবহন এবং গৃহস্থালি খাতে চরম সংকট দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে মাত্র এক সপ্তাহেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে দেশে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যাবে।

উপসংহার:
ভবিষ্যতে বড় জ্বালানি সংকট এড়াতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এখনই বিকল্প আমদানি রুট এবং জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা যে কতটা গভীরভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান উত্তেজনায়।