সর্বশেষ
বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত শার্শার বেনাপোল দিয়ে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী কাজিপুরে থানা চত্বরে মদসহ গ্রেফতার ১ জন পুলিশের পৃথক চলমান অভিযানে শার্শা ও ডিহি থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেত্রকোণায় নাজু হত্যায় নুরুল আমিনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক দুই মেম্বারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার শেরপুরের পাহাড়-বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক বিজেসির ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা-মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের ডাক শার্শায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সাভার প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

 পড়াশোনার সুবাদে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় এসে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করছিল ১৬ বছর বয়সী মেহজাবিন। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়া এবং পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে না পাওয়ার মানসিক কষ্টে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় সে। তবে মায়ের চিৎকার ও স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মেহজাবিনের বাবা হাফিজুর রহমান মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ‘ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কর্মরত। চাকরির কারণে তিনি পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকায় পরীক্ষার সময় মেয়ের পাশে থাকতে পারেননি। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় মেহজাবিন গভীর হতাশায় ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে সে নিজ কক্ষে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার মা আমেনা বেগম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে মেহজাবিনের মা আমেনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী চাকরির কারণে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে থাকেন। পরীক্ষার সময় অন্য সহপাঠীদের বাবারা তাদের সঙ্গে থাকলেও আমার মেয়ে তার বাবাকে পাশে পায়নি। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছিল। এরপর পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় এবং নম্বর কম পাওয়ার কারণে সে আরও হতাশ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে মেহজাবিনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ বিষয়ে সাভার থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। শিক্ষার্থীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মানসিক চাপ ও হতাশাজনিত বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পরীক্ষার ফলাফল কখনোই কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হতে পারে না। ফলাফল নিয়ে হতাশা বা মানসিক চাপের সময়ে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অভিভাবক ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 পড়াশোনার সুবাদে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় এসে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করছিল ১৬ বছর বয়সী মেহজাবিন। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়া এবং পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে না পাওয়ার মানসিক কষ্টে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় সে। তবে মায়ের চিৎকার ও স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মেহজাবিনের বাবা হাফিজুর রহমান মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ‘ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কর্মরত। চাকরির কারণে তিনি পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকায় পরীক্ষার সময় মেয়ের পাশে থাকতে পারেননি। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় মেহজাবিন গভীর হতাশায় ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে সে নিজ কক্ষে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার মা আমেনা বেগম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে মেহজাবিনের মা আমেনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী চাকরির কারণে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে থাকেন। পরীক্ষার সময় অন্য সহপাঠীদের বাবারা তাদের সঙ্গে থাকলেও আমার মেয়ে তার বাবাকে পাশে পায়নি। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছিল। এরপর পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় এবং নম্বর কম পাওয়ার কারণে সে আরও হতাশ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে মেহজাবিনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ বিষয়ে সাভার থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। শিক্ষার্থীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মানসিক চাপ ও হতাশাজনিত বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পরীক্ষার ফলাফল কখনোই কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হতে পারে না। ফলাফল নিয়ে হতাশা বা মানসিক চাপের সময়ে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অভিভাবক ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।