সর্বশেষ
চরফ্যাশন ভূমি অফিসে নিয়োগহীন ‘ছায়া সার্ভেয়ার’ হারুন: দাপ্তরিক ফাইল নিয়ন্ত্রণ ও লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা ভূমি অফিসে কোনো সরকারি নিয়োগ বা দাপ্তরিক পরিচয় ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ‘হারুন’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জনবল কাঠামোয় কোনো পদ না থাকলেও অফিসের গোপন ও সংবেদনশীল ফাইল আদান-প্রদানসহ পুরো দাপ্তরিক কার্যক্রম তার ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সেবাপ্রার্থী ও স্থানীয়দের। অনুসন্ধানে জানা যায়, হারুন নিজেকে ভূমি অফিসের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্ভেয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিসে আসা সেবাপ্রার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন। জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র গ্রহণ, নামজারি (খারিজ) ও নকশা বা সার্ভে সংক্রান্ত ফাইলগুলো মূল সার্ভেয়ারদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তিনি একচ্ছত্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। অফিসে আসা একাধিক সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে কথা বললে বেরিয়ে আসে হয়রানির চিত্র। তারা জানান, ভূমি অফিসে যেকোনো কাজের উদ্দেশ্যে গেলে প্রথমেই হারুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তার মাধ্যমে না গেলে বা দাবি করা অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখা কিংবা সার্ভেয়ারের কাছে পৌঁছাতে বিলম্ব করার মতো ঘটনার শিকার হতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন,আমি জমির নামজারির বিষয়ে সার্ভেয়ারের কক্ষে গেলে দায়িত্বরতরা আমাকে আগে হারুনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে হারুন আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে কাজ আটকে যাবে বলে হুমকি দেন।” অন্য এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,সরকারি অফিসে এসে যদি একজন বহিরাগত ব্যক্তির হাতে স্পর্শকাতর কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ সুবিচারের জন্য কোথায় যাবে? নিজেকে সহকারী সার্ভেয়ার পরিচয় দিয়ে তিনি আমার কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন। আরেক সেবাপ্রার্থী জানান, হারুনের সম্মতি বা মাধ্যম ছাড়া মূল সার্ভেয়ারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা প্রায় অসম্ভব। অফিসের অধিকাংশ ফাইলই মূলত এই ছায়া সার্ভেয়ারের হাত ঘুরে প্রক্রিয়াভুক্ত হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী উপজেলা ভূমি অফিসে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্ভেয়ার’ নামে কোনো পদই নেই। সরকারি কোনো নিয়োগপত্র কিংবা কার্ড না থাকলেও হারুন যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাতে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী স্বীকার করেন, হারুন দাপ্তরিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কেউ নন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অফিসের ভেতরে বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করায় সাধারণ মানুষ তাকে প্রভাবশালী মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমার স্যার বদলি হয়ে গিয়েছেন, সেজন্য একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। পরে কথা বলব। এই বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এমাদুল হোসেন-এর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। (তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারি অফিসে কোনো নিয়োগ ছাড়া বা অবৈধ ব্যক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আদান-প্রদান এবং অর্থ লেনদেনের ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চরফ্যাশন উপজেলা ভূমি অফিসে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।



















