সর্বশেষ
শার্শার বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে আলোকিত নারী সংস্থার শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বেনাপোলে নাশকতা মামলায় পৌর ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই আঃলীগ কর্মী আটক বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত শার্শার বেনাপোল দিয়ে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী কাজিপুরে থানা চত্বরে মদসহ গ্রেফতার ১ জন পুলিশের পৃথক চলমান অভিযানে শার্শা ও ডিহি থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেত্রকোণায় নাজু হত্যায় নুরুল আমিনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক দুই মেম্বারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার শেরপুরের পাহাড়-বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক

৬৪ জেলায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মোবাইল বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গায়েব, ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

দেশের ৬৪ জেলা থেকে কার্ড বাণিজ্য কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট, চাকরির প্রতিশ্রুতি, পদ-পদবী প্রদান এবং হাওলাতের নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন-এর প্রধান নুরুল্লাহ আল আমিন ও তার সহযোগী মুশকিল আহমেদ রনির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির নামে ও বেনামে পরিচালিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে বর্তমানে ওই গ্রুপগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। ফলে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিক তথ্যভিত্তিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর কোনো অফিস কিংবা নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের ঠিকানাও পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে চাকরি, কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সুবিধা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা নিজেদের প্রতারণার শিকার বলে দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিলেটের ভুক্তভোগী এনাম চৌধুরীকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে ওই অর্থ ফেরতের পর থেকেই অভিযুক্তদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুর রব অভিযোগ করে বলেন, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এটি আমার কষ্টার্জিত টাকা। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নুরুল্লাহ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আমি আমার বাকি টাকা ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৬৪ জেলায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মোবাইল বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গায়েব, ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ

আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

দেশের ৬৪ জেলা থেকে কার্ড বাণিজ্য কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট, চাকরির প্রতিশ্রুতি, পদ-পদবী প্রদান এবং হাওলাতের নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন-এর প্রধান নুরুল্লাহ আল আমিন ও তার সহযোগী মুশকিল আহমেদ রনির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির নামে ও বেনামে পরিচালিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে বর্তমানে ওই গ্রুপগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। ফলে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিক তথ্যভিত্তিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর কোনো অফিস কিংবা নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের ঠিকানাও পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে চাকরি, কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সুবিধা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা নিজেদের প্রতারণার শিকার বলে দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিলেটের ভুক্তভোগী এনাম চৌধুরীকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে ওই অর্থ ফেরতের পর থেকেই অভিযুক্তদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুর রব অভিযোগ করে বলেন, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এটি আমার কষ্টার্জিত টাকা। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নুরুল্লাহ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আমি আমার বাকি টাকা ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।