সর্বশেষ
সলিমপুরে সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ভাঙার পাশাপাশি র্যাব ক্যাম্প ভাঙচুরের নেপথ্য শক্তি খুঁজছে সরকার
বিশেষ প্রতিবেদক
- আপডেট সময় : ০৪:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম, ৩১ মে (রবিবার) : চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনায় নেপথ্য শক্তি ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার প্রভাববলয় ভেঙে ওই এলাকায় রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি। রবিবার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্ত কাঠামো’ তৈরি হয়েছিল, যার একটি বাস্তব চিত্র জঙ্গল সলিমপুর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের বাসভবনে সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও চাঁদা আদায়ের ঘটনা পর্যালোচনা করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরে সিসিটিভি, পাহারা ও নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি সমান্তরাল অপরাধ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। যৌথ অভিযানে সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বড় অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি—বিষয়টি তদন্তাধীন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। এর পেছনে কারা জড়িত, কোন ভূমিদস্যু চক্র সক্রিয় এবং কারা ইন্ধন দিয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সরকার, জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না; তবে প্রকৃত বাসিন্দাদের জন্য মানবিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, সলিমপুর কেন্দ্রিক আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বায়েজিদ লিংক সংলগ্ন খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের প্রকল্পও দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।









