সর্বশেষ
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক নালিতাবাড়ীতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শিল্পপতি হাজী মো: ফরহাদ হোসেন উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ শিশু-নারী নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ, কঠোর শাস্তির দাবিতে রাজপথে জনতা দমন-পীড়নেও থামেননি তিনি — সংগ্রামী শ্রমিক নেতা হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের লড়াইয়ের গল্প দোয়ার আহ্বান ঘিরে উদ্বেগ — গুরুতর অসুস্থ হাজী মোঃ টিপু সুলতান। “আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ, তবু অবহেলায় ঝুঁকিতে জনজীবন” — রায়গঞ্জে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহে শোভাযাত্রা,, ধর্ষকের পক্ষে না দাঁড়ানোর ঘোষণা, ঢাকা বারের আইনজীবীদের প্রতি জনমনে প্রশংসা কড়াইল বস্তিতে মিনি শিশা কারখানা গুলশানে বিপুল গাঁজা জব্দ গ্রেফতার ৬ রামিসাকে ধ/র্ষ/ণ-হ/ত্যা: মানবতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোদের পক্ষে নয় ঢাকা বার, ঢাকার উত্তরার পাশেই গড়ে উঠছে ফ্যাশন ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্ম

দমন-পীড়নেও থামেননি তিনি — সংগ্রামী শ্রমিক নেতা হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের লড়াইয়ের গল্প

স্টাফ রিপোর্টার: নিলুফা ইয়াসমিন
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

শ্রমিকের ঘামে গড়ে ওঠা সভ্যতার ইতিহাস যত পুরনো, ততটাই পুরনো শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস। যুগে যুগে অধিকারহারা মানুষের কণ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়েছেন কিছু সাহসী মানুষ। নিপীড়নের মুখেও যারা মাথা নত করেননি, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথকে করেছেন প্রতিবাদের মঞ্চ। তেমনই এক সংগ্রামী শ্রমিক নেতার নাম — হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুস।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি জীবনের শুরু থেকেই ছিলেন পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ তিতাস ট্রান্সমিশনে সার্ভিস ম্যান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতেই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন এবং তিতাস ট্রান্সমিশন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে তার সংগ্রামী পথচলার সূচনা হয়।
পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ডেমরা থানা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে।
কিন্তু রাজপথের এই সংগ্রামী নেতার জীবন ছিল না কুসুমাস্তীর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের নির্মম শিকার হতে হয়েছে তাকে বারবার। ২০১৮ সালে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি তিনি। পুলিশি হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপে একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার কাছ থেকে।
শুধু তাই নয়, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। অবশেষে ২০২৩ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু এই নির্মম বাস্তবতাও তাকে দমাতে পারেনি। বরং প্রতিটি আঘাত যেন তাকে আরও অদম্য করে তোলে।
পরবর্তীতে তার কাঁধে অর্পিত হয় ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স দলের সভাপতির দায়িত্ব। প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি হকারের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন শ্রমজীবী মানুষের আস্থার প্রতীক। রাজধানীর রাজপথে সাধারণ শ্রমিক, হকার ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি পালন করেন সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়গুলোতে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন রাজপথের পরিচিত মুখ। অসংখ্য শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন নির্ভীকভাবে।
ত্যাগ, নির্যাতন, সংগ্রাম আর নেতৃত্বের এই দীর্ঘ পথচলায় হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুস আজ শুধু একজন শ্রমিক নেতা নন—তিনি হয়ে উঠেছেন সংগ্রামী মানুষের প্রতীক, অধিকার আদায়ের এক অনমনীয় কণ্ঠস্বর।
রাজনীতির মাঠে কিংবা শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে, তার নাম উচ্চারিত হয় একজন আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে। অনেকেই তাকে “জুলাই যুদ্ধের সৈনিক” বলেও আখ্যায়িত করেন। কারণ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন দৃপ্ত কণ্ঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দমন-পীড়নেও থামেননি তিনি — সংগ্রামী শ্রমিক নেতা হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের লড়াইয়ের গল্প

আপডেট সময় : ১১:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

শ্রমিকের ঘামে গড়ে ওঠা সভ্যতার ইতিহাস যত পুরনো, ততটাই পুরনো শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস। যুগে যুগে অধিকারহারা মানুষের কণ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়েছেন কিছু সাহসী মানুষ। নিপীড়নের মুখেও যারা মাথা নত করেননি, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথকে করেছেন প্রতিবাদের মঞ্চ। তেমনই এক সংগ্রামী শ্রমিক নেতার নাম — হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুস।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি জীবনের শুরু থেকেই ছিলেন পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ তিতাস ট্রান্সমিশনে সার্ভিস ম্যান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতেই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন এবং তিতাস ট্রান্সমিশন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে তার সংগ্রামী পথচলার সূচনা হয়।
পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ডেমরা থানা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে।
কিন্তু রাজপথের এই সংগ্রামী নেতার জীবন ছিল না কুসুমাস্তীর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের নির্মম শিকার হতে হয়েছে তাকে বারবার। ২০১৮ সালে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি তিনি। পুলিশি হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপে একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার কাছ থেকে।
শুধু তাই নয়, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। অবশেষে ২০২৩ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু এই নির্মম বাস্তবতাও তাকে দমাতে পারেনি। বরং প্রতিটি আঘাত যেন তাকে আরও অদম্য করে তোলে।
পরবর্তীতে তার কাঁধে অর্পিত হয় ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স দলের সভাপতির দায়িত্ব। প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি হকারের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন শ্রমজীবী মানুষের আস্থার প্রতীক। রাজধানীর রাজপথে সাধারণ শ্রমিক, হকার ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি পালন করেন সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়গুলোতে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন রাজপথের পরিচিত মুখ। অসংখ্য শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন নির্ভীকভাবে।
ত্যাগ, নির্যাতন, সংগ্রাম আর নেতৃত্বের এই দীর্ঘ পথচলায় হাজী মোঃ আব্দুল কুদ্দুস আজ শুধু একজন শ্রমিক নেতা নন—তিনি হয়ে উঠেছেন সংগ্রামী মানুষের প্রতীক, অধিকার আদায়ের এক অনমনীয় কণ্ঠস্বর।
রাজনীতির মাঠে কিংবা শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে, তার নাম উচ্চারিত হয় একজন আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে। অনেকেই তাকে “জুলাই যুদ্ধের সৈনিক” বলেও আখ্যায়িত করেন। কারণ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন দৃপ্ত কণ্ঠে।