ছাত্ররাজনীতি থেকে ভোটের লড়াই—কে এই জাফর ইকবাল
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এক সম্ভাব্য নেতৃত্বের গল্প ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ৯নং যাদবপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মোঃ জাফর ইকবাল। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের পরিচিত এই মুখকে ঘিরে ভোটের মাঠে এখন বাড়তি আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। গোপালপুর গ্রামের একটি সম্মানিত পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর ইকবালের শৈশব ও বেড়ে ওঠা এই এলাকার মাটিতেই। ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবণতা এবং সংগঠনের কাজে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে ছাত্ররাজনীতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক আগ্রহের শুরু তার শিক্ষাজীবনের শুরু ৩৮ নম্বর গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি পড়াশোনা করেন প্রগতি বিদ্যা নিকেতন, যাদবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ২০০৬ সালে এসএসসি এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে স্নাতক অধ্যয়নকালে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও দৃঢ়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন। রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাই রাজনৈতিক জীবনের পথ সহজ ছিল না জাফর ইকবালের জন্য। ছাত্ররাজনীতির সময় বিভিন্ন সময়ে তাকে রাজনৈতিক চাপ, সংঘাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০১৩ সালে এক সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনার পর তিনি গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হন—যা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি ২০১২ সালে স্নাতক এবং ২০১৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। শিক্ষা ও রাজনীতি—এই দুই ধারাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে থাকেন। সংগঠনের দায়িত্বে উত্থান ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, মহেশপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। এ সময় তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, মহেশপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতেও তার অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা, গণসংযোগ ও স্থানীয় সমর্থন আদায়ের প্রতিযোগিতায় পুরো ইউনিয়ন এখন সরগরম। এই প্রেক্ষাপটে মোঃ জাফর ইকবালকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততা তাকে একজন পরিচিত প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। স্থানীয় মানুষের সমস্যার কথা শুনে তিনি বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকারে যা থাকছে তার ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে— গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন মাদকমুক্ত সমাজ গঠন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগ স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তিনি একটি নতুন ধরণের রাজনৈতিক ভাবনা উপস্থাপন করছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবল বলেন, “আমি সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম এবং আছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নকে আমি সম্মান করি। আমি বিশ্বাস করি, কাজের মাধ্যমেই একজন মানুষের পরিচয় তৈরি হয়। যদি জনগণ আমাকে সুযোগ দেয়, তাহলে আমি উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ইউনিয়ন গড়ার জন্য কাজ করব। আমার লক্ষ্য ব্যক্তিগত কিছু নয়—লক্ষ্য হলো এই এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করা।” সর্বশেষ গোপালপুর গ্রামের এক ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল রাজনীতির সক্রিয় মুখ হয়ে ওঠার এই যাত্রা মোঃ জাফর ইকবালের রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। আসন্ন যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি কতটা সফল হন—এটাই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচনার বিষয়।





















