হুমকি-ধামকি ও প্রতারণার অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের একজন, গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ আজিম মিঞা, এ বিষয়ে রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন (জিডি নং-১০২৪, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান)। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬, আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মুশফিকুর রহিম (রনি) নিজ ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ফোন করে আজিম মিঞাকে তুলে নেওয়া, প্রাণনাশ এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, সংগঠনের চেয়ারম্যান নুরুল্লাহ আল আমিনের নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছে। পদ-পদবি দেওয়ার প্রলোভন, কথিত কাঠ বাণিজ্যসহ নানা কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এসব তথ্য প্রকাশ করায় তাকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজিম মিঞাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার ভিত্তিহীন প্রচারণা চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, সংগঠনের ভেতরে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে এবং নতুন একটি গ্রুপ গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। সংযোজন (আর্থিক অভিযোগ): ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩–৪ হাজার সদস্যের কাছ থেকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি জনের কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে আনুমানিক ৪,০০০ × ৫,০০০ = ২,০০,০০,০০০ টাকা (প্রায় দুই কোটি টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দেন এবং শুধুমাত্র কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে সংগঠনের দুষর হিসেবে চারজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। উপসংহার: চকবাজার মডেল থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





















