সর্বশেষ
যশোর সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে বিজিপির কড়া নজরদারি ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার বিপিজিএমইএতে ‘নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার’ অভিযোগ: নির্বাচন স্থগিত ও প্রশাসক নিয়োগে সাধারণ সদস্যদের দাবি বেনাপোল থানা প্রেসক্লাবের নাম পরিবর্তন, নতুন নাম “উপজেলা প্রেসক্লাব শার্শা” তারিখ: ২৯ মার্চ ২০২৭ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ার শাজাহানপুরে গাছ বিক্রির নামে প্রতারণা, ব্যবসায়ীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শাজাহানপুরে আবারও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী! সাংবাদিকদের মিলনমেলায় সৌহার্দ্য, পেশাগত ঐক্য ও ভবিষ্যৎ করণীয়তে প্রত্যয় চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় নতুন কমিটি ঘোষণা বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা, ঐক্য ও নৈতিক সাংবাদিকতার দৃঢ় বার্তা ⠀

বিপিজিএমইএতে ‘নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার’ অভিযোগ: নির্বাচন স্থগিত ও প্রশাসক নিয়োগে সাধারণ সদস্যদের দাবি

মোঃ আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

প্রতিবাদী কণ্ঠ | বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান নেতৃত্ব ‘যেনতেনভাবে’ নির্বাচন আয়োজনের পাঁয়তারা করছে, যার মাধ্যমে তারা পুনরায় ক্ষমতায় থাকতে চায়।
এ প্রেক্ষিতে, ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করে বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত এবং একজন নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন সদস্যরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন
গত বুধবার বিপিজিএমইএ’র সদস্য ও ইমন্ড এন্সেরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এম. জহির ফারুক সাধারণ সদস্যদের পক্ষে বাণিজ্য সচিব বরাবর একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং নির্বাচনবিহীন পরিচালনার চিত্র তুলে ধরা হয়।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত প্রায় দুই দশক ধরে কোনো নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন ছাড়াই সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে সংগঠনের ভেতরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। যেমন—
কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা ক্রয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই জমি ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ
বোর্ড অনুমোদন ছাড়া দুর্বল ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিতে কোটি টাকার এফডিআর, যার হদিস নেই
সংবিধান লঙ্ঘন করে বকেয়া চাঁদা মওকুফ বা রেয়াত দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন
অযোগ্য ও অশিল্প মালিকদের সদস্য ও ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা
তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সংগঠনটিকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক
বিপিজিএমইএ’র ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, এরই মধ্যে বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদের নেতৃত্বাধীন পর্ষদের মেয়াদ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হলেও, ইতোমধ্যে দুই দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের মেয়াদ আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ সদস্যদের প্রশ্ন—একদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, অন্যদিকে মেয়াদ বৃদ্ধি—এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি করছে।

বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য
বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদ দাবি করেছেন, “নিয়ম মেনেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিপিজিএমইএতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কাগজপত্রের ঘাটতি নেই বলেই সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়নি।”
অন্যদিকে, সাবেক সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল বলেন,
“গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি গোষ্ঠী এই সংগঠনকে কার্যত জবরদখল করে রেখেছে। অযোগ্যদের সদস্য বানিয়ে ভুয়া ভোটার তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। আমরা চাই সরকার দ্রুত পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করুক।”

বিশ্লেষণ: সংকটে সংগঠনের সুশাসন
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী সংগঠনে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া এবং সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা—এগুলো সুশাসনের জন্য বড় হুমকি। এতে করে শিল্পখাতের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব বাধাগ্রস্ত হয় এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা কমে যায়।

সদস্যদের মূল দাবি
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা
নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগ
ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিল
নতুন করে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন
প্রতিবাদী কণ্ঠের পর্যবেক্ষণ:
বিপিজিএমইএ’র এই পরিস্থিতি শুধু একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের সুশাসন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও। এখন দেখার বিষয়—বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিপিজিএমইএতে ‘নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার’ অভিযোগ: নির্বাচন স্থগিত ও প্রশাসক নিয়োগে সাধারণ সদস্যদের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

প্রতিবাদী কণ্ঠ | বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান নেতৃত্ব ‘যেনতেনভাবে’ নির্বাচন আয়োজনের পাঁয়তারা করছে, যার মাধ্যমে তারা পুনরায় ক্ষমতায় থাকতে চায়।
এ প্রেক্ষিতে, ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করে বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত এবং একজন নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন সদস্যরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন
গত বুধবার বিপিজিএমইএ’র সদস্য ও ইমন্ড এন্সেরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এম. জহির ফারুক সাধারণ সদস্যদের পক্ষে বাণিজ্য সচিব বরাবর একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং নির্বাচনবিহীন পরিচালনার চিত্র তুলে ধরা হয়।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত প্রায় দুই দশক ধরে কোনো নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন ছাড়াই সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে সংগঠনের ভেতরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। যেমন—
কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা ক্রয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই জমি ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ
বোর্ড অনুমোদন ছাড়া দুর্বল ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিতে কোটি টাকার এফডিআর, যার হদিস নেই
সংবিধান লঙ্ঘন করে বকেয়া চাঁদা মওকুফ বা রেয়াত দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন
অযোগ্য ও অশিল্প মালিকদের সদস্য ও ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা
তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সংগঠনটিকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক
বিপিজিএমইএ’র ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, এরই মধ্যে বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদের নেতৃত্বাধীন পর্ষদের মেয়াদ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হলেও, ইতোমধ্যে দুই দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের মেয়াদ আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ সদস্যদের প্রশ্ন—একদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, অন্যদিকে মেয়াদ বৃদ্ধি—এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি করছে।

বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য
বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদ দাবি করেছেন, “নিয়ম মেনেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিপিজিএমইএতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কাগজপত্রের ঘাটতি নেই বলেই সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়নি।”
অন্যদিকে, সাবেক সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল বলেন,
“গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি গোষ্ঠী এই সংগঠনকে কার্যত জবরদখল করে রেখেছে। অযোগ্যদের সদস্য বানিয়ে ভুয়া ভোটার তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। আমরা চাই সরকার দ্রুত পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করুক।”

বিশ্লেষণ: সংকটে সংগঠনের সুশাসন
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী সংগঠনে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া এবং সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা—এগুলো সুশাসনের জন্য বড় হুমকি। এতে করে শিল্পখাতের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব বাধাগ্রস্ত হয় এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা কমে যায়।

সদস্যদের মূল দাবি
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা
নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগ
ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিল
নতুন করে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন
প্রতিবাদী কণ্ঠের পর্যবেক্ষণ:
বিপিজিএমইএ’র এই পরিস্থিতি শুধু একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের সুশাসন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও। এখন দেখার বিষয়—বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।