প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচন ঘিরে তোলপাড়: ভোটার কারচুপি, দুর্নীতি ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে পরিচালিত এই সংগঠনে সম্প্রতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অস্থিরতা।
২৪ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ৭টার দিকে সংগঠনের ভেতরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোট ১৩১২ জন সদস্যের এই সংগঠনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাত্র ১৫০ জনকে। এমনকি ২০৬ নম্বর সদস্যসহ অসংখ্য প্রকৃত সদস্যকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ বছর ধরে কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই ২১ সদস্যের একটি সিলেকশন কমিটি সংগঠন পরিচালনা করে আসছে। এ অবস্থায় নতুন করে নির্বাচন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এবং একটি নতুন প্যানেল সক্রিয় হয়ে উঠলে পূর্বের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাধা ও কৌশলগত তৎপরতা শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, কেবি রুদ্র রোড শিল্প উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আসন্ন বিপিজিএমএ অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শামীম প্রকাশ্যে সদস্য নবাব বাহাদুরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আপনাকে দেখলে আমার মাথা গরম হয়ে যায়।”—যা সংগঠনের ভেতরে আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
প্রেসিডেন্ট শামীম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবালের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে। সদস্যদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অবমূল্যায়নের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিরেক্টর হাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব নির্বাচন সচিব মাসুদের কাছে ভোটার সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন—রিসিভ অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা জানা সম্ভব হলেও তা প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট শামীম ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক ও সদস্যদের সঙ্গে তিরস্কারমূলক আচরণ করেন। ডিরেক্টর হাজী ইয়াকুবের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সাবেক ডিরেক্টর হাজী মোহাম্মদ আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন সদস্য এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে করে অফিস প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে, সাংবাদিকদের ধারণকৃত ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি পল্টন থানার ওসির মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবালের বিরুদ্ধে। তবে সাংবাদিকরা কৌশলে ভিডিও সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন।
এছাড়াও একাধিক ব্যক্তি সদস্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৫০০-এর বেশি দেখানো হলেও বিদ্রোহী প্যানেলের প্রশ্ন—মাত্র ১৫০ ভোটার থেকে হঠাৎ করে এই সংখ্যা কীভাবে বাড়ল? তাদের দাবি, নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আংশিক অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে কোরাম পূরণ করা হয়েছে।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সংগঠনটিকে অনেকেই এখন “দুর্নীতির আখড়া” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সাধারণ সদস্যদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। অভিযোগ রয়েছে, যাদের একসময় কোনো উল্লেখযোগ্য অবস্থান ছিল না, তারা এখন বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন—যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট শামীম ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবালের আচরণ এবং নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সদস্য নবাব বাহাদুরের সঙ্গে তাদের প্রকাশ্য আচরণকে অনেকেই অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এখন আলোচনা-সমালোচনা ও তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।





















