সর্বশেষ
চারঘাটে ৬০ গ্রাম হেরোইনসহ ২ জন গ্রেফতার গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় প্রস্তুতিমূলক সভা, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকা চকবাজারের বিশিষ্ট খেলনা ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদের পিত্তস্থলীতে পাথর অপারেশন আজ, সবার কাছে দোয়া কামনা কাচপুরের হাজী গরিবুল্লাহ রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে সাংবাদিকদের অসন্তোষ জমি নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষকে কোপানোর পর অন্য পক্ষের বাড়িঘরে লুট নালিতাবাড়ীতে যুবককে অটোতে তুলে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘রিপোর্টার্স প্রেসক্লাব গাইবান্ধা’র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দ কাজিপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিপদসংকুল আচরণের অভিযোগ

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন: বিমা দাবিতে নয়-ছয়ের আশঙ্কা!

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখন টাকার অঙ্কে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়লেও বিমা দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কেউ যদি বিমা পলিসির শর্তকে কেন্দ্র করে ‘নয়-ছয়’ বা গোঁজামিলের যুক্তি দাঁড় করায়, তাহলে তারা তা মেনে নেবেন না। আইডিআরএর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—যেসব ব্যবসায়ীর বিমা পলিসির শর্ত পূরণ রয়েছে, তারা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সংস্থার সদস্যদের প্রায় ২৩ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক এক বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, শুধু কাঁচামালের ক্ষতিই ২০০ কোটি টাকার বেশি, আর ভ্যাট ও এআইটি হিসাব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে।

তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ মালামালই বিমার আওতায় ছিল। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “যদি এই ক্ষতিগুলো পলিসির আওতায় থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকবেন। বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত দাবি পরিশোধে উদ্যোগ নিতে হবে।”

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বিমা কোম্পানিগুলো যেন কোনোভাবেই গড়িমসি না করে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, যেন ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান।”

আইডিআরএর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার জানান, “আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছি। অনেক ক্ষেত্রে রিইনস্যুরেন্স জড়িত থাকায় কিছু সময় লাগতে পারে। তবে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে যাতে তারা প্রাথমিকভাবে নিজেদের অর্থে ক্ষতিপূরণ দেয় এবং পরে কাগজপত্র অনুযায়ী সমন্বয় করে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা চাই ব্যবসায়ীদের ক্ষতি যত দ্রুত সম্ভব কাভার করা হোক। কোনো ক্লেইম ঝুলে থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

এদিকে বিমার বাইরে থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন: বিমা দাবিতে নয়-ছয়ের আশঙ্কা!

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখন টাকার অঙ্কে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়লেও বিমা দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কেউ যদি বিমা পলিসির শর্তকে কেন্দ্র করে ‘নয়-ছয়’ বা গোঁজামিলের যুক্তি দাঁড় করায়, তাহলে তারা তা মেনে নেবেন না। আইডিআরএর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—যেসব ব্যবসায়ীর বিমা পলিসির শর্ত পূরণ রয়েছে, তারা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সংস্থার সদস্যদের প্রায় ২৩ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক এক বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, শুধু কাঁচামালের ক্ষতিই ২০০ কোটি টাকার বেশি, আর ভ্যাট ও এআইটি হিসাব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে।

তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ মালামালই বিমার আওতায় ছিল। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “যদি এই ক্ষতিগুলো পলিসির আওতায় থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকবেন। বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত দাবি পরিশোধে উদ্যোগ নিতে হবে।”

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বিমা কোম্পানিগুলো যেন কোনোভাবেই গড়িমসি না করে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, যেন ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান।”

আইডিআরএর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার জানান, “আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছি। অনেক ক্ষেত্রে রিইনস্যুরেন্স জড়িত থাকায় কিছু সময় লাগতে পারে। তবে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে যাতে তারা প্রাথমিকভাবে নিজেদের অর্থে ক্ষতিপূরণ দেয় এবং পরে কাগজপত্র অনুযায়ী সমন্বয় করে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা চাই ব্যবসায়ীদের ক্ষতি যত দ্রুত সম্ভব কাভার করা হোক। কোনো ক্লেইম ঝুলে থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

এদিকে বিমার বাইরে থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।