সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ! ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক বাঙালিরা, মোদির হস্তক্ষেপ চাইলেন মমতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১৮০ বার পড়া হয়েছে

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ভারতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে আটক কিংবা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেছেন, আসাম, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে বহু নিরপরাধ মানুষকে বিদেশি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বসন্তকুঞ্জ এলাকার এক বাঙালি পাড়ায় পানির সংযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা দেশটির গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। এমন আচরণকে বাঙালি বিদ্বেষ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি এক বিতর্কিত বক্তব্যে বলেন, “গণনাতে কেউ যদি বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন, তাহলে তাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।” তার এই বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি ট্যাগ লাগিয়ে মানুষকে আটক করা হচ্ছে বা বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে—এটা অসাংবিধানিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”

ওড়িশায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে অন্তত ৩৫০ জন বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে শুধুমাত্র ভাষাগত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক চরিত্রকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করে গোটা জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা একধরনের জাতিগত নিপীড়ন। বাংলা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ভাষা। এই ভাষার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এমন আচরণ ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়—মানবিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ভাষাগত বৈচিত্র্যকে রক্ষা না করলে তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ! ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক বাঙালিরা, মোদির হস্তক্ষেপ চাইলেন মমতা

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ভারতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে আটক কিংবা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেছেন, আসাম, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে বহু নিরপরাধ মানুষকে বিদেশি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বসন্তকুঞ্জ এলাকার এক বাঙালি পাড়ায় পানির সংযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা দেশটির গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। এমন আচরণকে বাঙালি বিদ্বেষ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি এক বিতর্কিত বক্তব্যে বলেন, “গণনাতে কেউ যদি বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন, তাহলে তাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।” তার এই বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি ট্যাগ লাগিয়ে মানুষকে আটক করা হচ্ছে বা বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে—এটা অসাংবিধানিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”

ওড়িশায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে অন্তত ৩৫০ জন বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে শুধুমাত্র ভাষাগত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক চরিত্রকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করে গোটা জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা একধরনের জাতিগত নিপীড়ন। বাংলা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ভাষা। এই ভাষার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এমন আচরণ ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়—মানবিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ভাষাগত বৈচিত্র্যকে রক্ষা না করলে তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।