সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ! ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক বাঙালিরা, মোদির হস্তক্ষেপ চাইলেন মমতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ভারতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে আটক কিংবা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেছেন, আসাম, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে বহু নিরপরাধ মানুষকে বিদেশি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বসন্তকুঞ্জ এলাকার এক বাঙালি পাড়ায় পানির সংযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা দেশটির গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। এমন আচরণকে বাঙালি বিদ্বেষ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি এক বিতর্কিত বক্তব্যে বলেন, “গণনাতে কেউ যদি বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন, তাহলে তাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।” তার এই বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি ট্যাগ লাগিয়ে মানুষকে আটক করা হচ্ছে বা বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে—এটা অসাংবিধানিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”

ওড়িশায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে অন্তত ৩৫০ জন বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে শুধুমাত্র ভাষাগত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক চরিত্রকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করে গোটা জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা একধরনের জাতিগত নিপীড়ন। বাংলা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ভাষা। এই ভাষার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এমন আচরণ ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়—মানবিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ভাষাগত বৈচিত্র্যকে রক্ষা না করলে তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ! ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক বাঙালিরা, মোদির হস্তক্ষেপ চাইলেন মমতা

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ভারতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে আটক কিংবা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেছেন, আসাম, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে বহু নিরপরাধ মানুষকে বিদেশি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বসন্তকুঞ্জ এলাকার এক বাঙালি পাড়ায় পানির সংযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা দেশটির গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। এমন আচরণকে বাঙালি বিদ্বেষ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি এক বিতর্কিত বক্তব্যে বলেন, “গণনাতে কেউ যদি বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন, তাহলে তাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।” তার এই বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি ট্যাগ লাগিয়ে মানুষকে আটক করা হচ্ছে বা বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে—এটা অসাংবিধানিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”

ওড়িশায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে অন্তত ৩৫০ জন বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে শুধুমাত্র ভাষাগত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক চরিত্রকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করে গোটা জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা একধরনের জাতিগত নিপীড়ন। বাংলা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ভাষা। এই ভাষার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এমন আচরণ ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়—মানবিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ভাষাগত বৈচিত্র্যকে রক্ষা না করলে তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।