সর্বশেষ
আইজিপির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ সালথায় পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার: ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তারেক অবশেষে পুলিশের জালে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ নওগাঁর বদলগাছীতে ভ্যানচালক মিঠু হত্যা: রহস্য উদঘাটনের দাবি, আটক ১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কক্ষে রাজনৈতিক কার্যক্রম, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫ ১০৪ বার পড়া হয়েছে


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের উত্তর পাশে অবস্থিত রেলস্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ দখল করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, মহানগর বিএনপির মতিহার থানার সভাপতি মো. একরাম আলী সম্প্রতি স্টেশনের ওই কক্ষটি সংস্কার করে সেখানে নিয়মিত বৈঠক করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর একরাম আলী ও তাঁর অনুসারীরা সেখানে সমবেত হন। কক্ষটিতে টেবিল-চেয়ারসহ একটি ছোটখাটো অফিসঘরের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তবে দিনের বেলায় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একরাম আলী বলেন, “আমি কোনো দখল করিনি। কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আস্তানা ছিল। আমি নিজের অর্থে পরিষ্কার করে এটি ব্যবহারযোগ্য করেছি। এখন এখানে চা-চক্র হয়, মানুষ বসে গল্প করে। এতে কারও ক্ষতি হচ্ছে না।”

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি তিনি নেননি। তাঁর ভাষায়, “সরকারি জায়গা হলে সরকারই নিয়ে যাবে। আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই।”

স্টেশনটি যাত্রীস্বল্পতায় দীর্ঘদিন ধরেই অচল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি একরাম আলী ও তাঁর অনুসারীরা তালা ভেঙে আবার কক্ষটি ব্যবহার শুরু করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে চেয়ার-টেবিলসহ কিছু আসবাব রয়েছে। সেখানে একরাম আলী নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সঙ্গে ৮-১০ জন অনুসারী বসে ছিলেন। যদিও কোনো ব্যানার বা দলের নাম লেখা বোর্ড দেখা যায়নি, দেয়ালে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কিছু গ্রাফিতি বা দেয়াললিখন চোখে পড়ে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ব্যবহার করায় একপ্রকার অবৈধ দখলের চিত্রই স্পষ্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কক্ষে রাজনৈতিক কার্যক্রম, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের উত্তর পাশে অবস্থিত রেলস্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ দখল করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, মহানগর বিএনপির মতিহার থানার সভাপতি মো. একরাম আলী সম্প্রতি স্টেশনের ওই কক্ষটি সংস্কার করে সেখানে নিয়মিত বৈঠক করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর একরাম আলী ও তাঁর অনুসারীরা সেখানে সমবেত হন। কক্ষটিতে টেবিল-চেয়ারসহ একটি ছোটখাটো অফিসঘরের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তবে দিনের বেলায় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একরাম আলী বলেন, “আমি কোনো দখল করিনি। কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আস্তানা ছিল। আমি নিজের অর্থে পরিষ্কার করে এটি ব্যবহারযোগ্য করেছি। এখন এখানে চা-চক্র হয়, মানুষ বসে গল্প করে। এতে কারও ক্ষতি হচ্ছে না।”

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি তিনি নেননি। তাঁর ভাষায়, “সরকারি জায়গা হলে সরকারই নিয়ে যাবে। আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই।”

স্টেশনটি যাত্রীস্বল্পতায় দীর্ঘদিন ধরেই অচল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি একরাম আলী ও তাঁর অনুসারীরা তালা ভেঙে আবার কক্ষটি ব্যবহার শুরু করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে চেয়ার-টেবিলসহ কিছু আসবাব রয়েছে। সেখানে একরাম আলী নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সঙ্গে ৮-১০ জন অনুসারী বসে ছিলেন। যদিও কোনো ব্যানার বা দলের নাম লেখা বোর্ড দেখা যায়নি, দেয়ালে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কিছু গ্রাফিতি বা দেয়াললিখন চোখে পড়ে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ব্যবহার করায় একপ্রকার অবৈধ দখলের চিত্রই স্পষ্ট।