মৃত ব্যক্তির নামে খোলা ফেক আইডিতে মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্যের অভিযোগ, নরোত্তমপুরে নতুন আলোচনা
- আপডেট সময় : ১১:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সাংবাদিক আজিম মিয়ার পিতা প্রয়াত আবুল হাশেম মিয়ার নামে খোলা একটি ফেক আইডি থেকে মৃত ব্যক্তিকে নিয়েই ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক আজিম মিয়ার বিল্ডিং ঘরে চুরির ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও নিউজে তার মায়ের দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃত করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তিত বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর সেই বিকৃত বক্তব্য বা তথ্য প্রয়াত আবুল হাশেম মিয়ার নামে খোলা ফেক আইডিতে প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের আলোচনায় উঠে এসেছে মাদক সেবনে সম্পৃক্ততা থাকা মোঃ বেলাল হোসেন শামীম ও তার ছোট ভাই মোহন, পিতা—মৃত শফিউল্লাহ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলাল হোসেন শামীম ৩ নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড প্রতিনিধি পলাশ মেম্বারের ভাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়াত আবুল হাশেম মিয়ার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত একটি ফেক আইডি থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং আপত্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ‘আব্দুল্লাহ সাব্বির’ ও ‘জয়নাল আবদীন’ নাম ব্যবহারকারী আইডিগুলোর সঙ্গে এসব মন্তব্য ও কার্যক্রমের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
এদিকে, মৃত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা, ভিডিও বা বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন বা আপত্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও, বক্তব্য বা ছবি বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো বক্তব্য বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আগে তার সত্যতা ও উৎস যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির নাম-পরিচয় ব্যবহার করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট ফেক আইডির প্রযুক্তিগত তথ্য, পোস্টের উৎস, ভিডিও বা বক্তব্যের মূল সংস্করণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে বেলাল হোসেন শামীম, মোহন, ‘আব্দুল্লাহ সাব্বির’ বা ‘জয়নাল আবদীন’—কারও বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে । ফেক আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারী, এআই-ভিত্তিক কোনো বিকৃতি করা হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে কারও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় প্রযুক্তিগত তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।



















