ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ব্যবহৃত হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন চরফ্যাশন জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আল মামুন এবং চরফ্যাশন উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক তৈয়্যবুর রহমান তুহিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক এই বিরোধকে দপ্তরীয় ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্র ধরে ভোলার চরফ্যাশনের স্থানীয় সাংবাদিক তৈয়্যবুর রহমান তুহিনের সঙ্গে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাহিদা আক্তার মিমের পরিচয় গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আল মামুন নাহিদা আক্তার মিমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এই আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকেই মূলত পারিবারিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত ঘটে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিমের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে বিবাহ বিচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবং মিমের পরিবারও আল মামুন ও তার বাবার নূর মোহাম্মদ এর আত্মীয়-স্বজন হওয়ায় মামুন ও তার পিতা তুহিনের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই আল মামুন ও সাংবাদিক তুহিনের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ব্যক্তিগত বিরোধকে আল মামুন ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দাখিল, মামলা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ঘটনাটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। একাধিক সূত্রের মতে, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে এই পারিবারিক বিরোধকে দপ্তরীয় ইস্যুতে রূপ দেওয়া হচ্ছে। এতে একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। তবে এ বিষয়ে আল মামুন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধকে দাপ্তরিক প্রভাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তারা মত দেন।























