সর্বশেষ
অতিরিক্ত টোলের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জে ক্ষোভ, ডিসি অফিসের সামনে মানববন্ধন কামরাঙ্গীরচরের ডলফিন হাসপাতালে সেবার নামে অবহেলার অভিযোগ, অসুস্থ শিশুকে নিয়ে অভিভাবকের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা সাভার সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি নোয়াখালী মাইজদী প্রাইম হসপিটাল: তৃতীয় ধাপের আপডেট, প্রতিবন্ধীদের নামে কোটি টাকার ঋণ! প্রতারণার শিকার দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী শারমিন হক নোয়াখালী মাইজদিতে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ: বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু রাজধানীর চকবাজারে যুবকের ইন্তেকাল নোয়াখালীকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশাল মানববন্ধন কালবৈশাখীর সতর্কবার্তা: গাইবান্ধায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নিরাপদে থাকার আহ্বান গাইবান্ধায় জাল নোটসহ আটক ১, জনতার সহায়তায় পুলিশের হেফাজতে

কামরাঙ্গীরচরের ডলফিন হাসপাতালে সেবার নামে অবহেলার অভিযোগ, অসুস্থ শিশুকে নিয়ে অভিভাবকের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ক্যানোলা স্থাপনে ব্যর্থতা, রাতভর শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, নার্সদের দায়িত্বহীনতা—অবশেষে অন্য হাসপাতালে ভর্তি
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত ডলফিন হাসপাতাল অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার-এর বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, অদক্ষতা এবং অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এক অসুস্থ ১৫ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা অভিভাবক তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুর হাতে ক্যানোলা (Cannula) স্থাপন করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে অভিভাবক রাতভর বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়ালেও কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি।
পরে পূর্বে দেখানো এক চিকিৎসকের পরামর্শে পুনরায় উক্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) থেকে শিশুর ক্যানোলা সম্পন্ন করে আনা হয়।
রাতভর শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ
অভিভাবকের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে ক্যানোলা নষ্ট হয়ে গেলেও তা সরানো হয়নি। বরং রাতভর সেটি শিশুর হাতে রেখেই বারবার জোরপূর্বক ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। এতে শিশুর হাত ফুলে যায়, নীল হয়ে পড়ে এবং সে তীব্র ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে।
প্রায় ৯ ঘণ্টা পর, সকাল ৯টার দিকে অভিভাবকদের চাপের মুখে ক্যানোলা অপসারণ করা হয়।
নার্সদের দায়িত্বহীনতা
অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বে থাকা নার্সদের বারবার ডাকলেও তারা সাড়া দেননি। বরং তাদের মোবাইল ব্যবহার ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিভাবকদের একপর্যায়ে প্রতিবাদ করতে হয়।
অদক্ষতা ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ
শিশুর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় দক্ষ কর্মীর অভাবে বারবার সুঁই ফোটানোর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসি ছাড়া বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রিপোর্ট প্রদানে গড়িমসি
২৬ তারিখে দেওয়া পরীক্ষার রিপোর্ট ২৮ তারিখে চাওয়ার পরও তা সরবরাহ করা হয়নি। বরং বারবার নতুন তারিখ দিয়ে অভিভাবকদের হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ সাধারণ সিবিসি বা ইউরিন পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার কথা।
অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিশৃঙ্খলা
হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও রিসিপশনিস্টদের আচরণকে ‘উদ্ধত’ উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, কোনো অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব এড়িয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন। এতে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
বর্তমান অবস্থা
এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে DNCC ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হলে বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিভাবক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
(এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী অভিভাবকের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কামরাঙ্গীরচরের ডলফিন হাসপাতালে সেবার নামে অবহেলার অভিযোগ, অসুস্থ শিশুকে নিয়ে অভিভাবকের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা

আপডেট সময় : ১০:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ক্যানোলা স্থাপনে ব্যর্থতা, রাতভর শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, নার্সদের দায়িত্বহীনতা—অবশেষে অন্য হাসপাতালে ভর্তি
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত ডলফিন হাসপাতাল অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার-এর বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, অদক্ষতা এবং অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এক অসুস্থ ১৫ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা অভিভাবক তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুর হাতে ক্যানোলা (Cannula) স্থাপন করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে অভিভাবক রাতভর বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়ালেও কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি।
পরে পূর্বে দেখানো এক চিকিৎসকের পরামর্শে পুনরায় উক্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) থেকে শিশুর ক্যানোলা সম্পন্ন করে আনা হয়।
রাতভর শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ
অভিভাবকের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে ক্যানোলা নষ্ট হয়ে গেলেও তা সরানো হয়নি। বরং রাতভর সেটি শিশুর হাতে রেখেই বারবার জোরপূর্বক ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। এতে শিশুর হাত ফুলে যায়, নীল হয়ে পড়ে এবং সে তীব্র ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে।
প্রায় ৯ ঘণ্টা পর, সকাল ৯টার দিকে অভিভাবকদের চাপের মুখে ক্যানোলা অপসারণ করা হয়।
নার্সদের দায়িত্বহীনতা
অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বে থাকা নার্সদের বারবার ডাকলেও তারা সাড়া দেননি। বরং তাদের মোবাইল ব্যবহার ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিভাবকদের একপর্যায়ে প্রতিবাদ করতে হয়।
অদক্ষতা ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ
শিশুর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় দক্ষ কর্মীর অভাবে বারবার সুঁই ফোটানোর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসি ছাড়া বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রিপোর্ট প্রদানে গড়িমসি
২৬ তারিখে দেওয়া পরীক্ষার রিপোর্ট ২৮ তারিখে চাওয়ার পরও তা সরবরাহ করা হয়নি। বরং বারবার নতুন তারিখ দিয়ে অভিভাবকদের হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ সাধারণ সিবিসি বা ইউরিন পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার কথা।
অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিশৃঙ্খলা
হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও রিসিপশনিস্টদের আচরণকে ‘উদ্ধত’ উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, কোনো অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব এড়িয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন। এতে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
বর্তমান অবস্থা
এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে DNCC ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হলে বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিভাবক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
(এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী অভিভাবকের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।