সর্বশেষ
প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত, ৩০ জনকে ১৮ হাজার টাকা অনুদান ও সনদপত্র প্রদান বীরগঞ্জে কাদাযুক্ত সড়কে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীতে বন্যার শঙ্কা, খাল পরিষ্কার ও খননের দাবি নাটোরের দয়ারামপুরে জমি দখল ও মারধরের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন: এলাকায় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন এফএ থেকে সিইও: একটি বীমা দাবির চেক যেভাবে বদলে দিল মো. কাজিম উদ্দিনের জীবন চৌমুহনীতে ডিবির অভিযানে ৫২ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি ইয়াসিন গ্রেপ্তার ময়মনসিংহের ভালুকায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপিত ফুলবাড়ীয়ায় সম্প্রসারিত উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী খানসামায় দীঘিতে পড়ে ১৬ মাস বয়সী শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বালিয়াডাঙ্গীতে মোঃ কাসিম আলীর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে মানবন্ধন, দোষীদের শাস্তি দাবি

বীরগঞ্জে কাদাযুক্ত সড়কে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ

 বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ॥
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সড়ক কাদাযুক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কাদায় ভরা সড়কে ধানের চারা রোপণ করে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে দুই শিশু শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ এলাকায় কাদাযুক্ত একটি সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার দীর্ঘদিনের সড়ক দুর্ভোগের একটি প্রতীকী প্রকাশ। শিশুদের এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাল্টাপুর ইউনিয়নের স্লুইচগেট হয়ে ঘোড়াবান্দ-কাজল গ্রাম সড়ক, ঘোড়াবান্দ থেকে সনকাগামী সড়ক এবং ঘোড়াবান্দ থেকে কালিরহাটগামী সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদাযুক্ত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও এত বেশি কাদা জমে যে পথচারীদের হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়। যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তার কাদার কারণে প্রায়ই পিছলে পড়ে যেতে হয়। অনেক সময় পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। সড়কের এমন অবস্থার প্রতিই তারা ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের বহু মানুষ প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করেন। বর্ষা এলেই চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং সাধারণ যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
সনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য তাকে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। অনেক শিক্ষার্থী কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসে এবং অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
কাজল গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়ও বেশি লাগছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা পরিচালনায়ও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবহনচালক এ পথে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তার জানা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সড়কগুলোর উন্নয়নের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
দিনাজপুর-১ আসেনর সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, শিশুদের এই প্রতীকী প্রতিবাদের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বীরগঞ্জে কাদাযুক্ত সড়কে ধানের চারা রোপণ করে শিশুদের নীরব প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ১২:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সড়ক কাদাযুক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কাদায় ভরা সড়কে ধানের চারা রোপণ করে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে দুই শিশু শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ এলাকায় কাদাযুক্ত একটি সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার দীর্ঘদিনের সড়ক দুর্ভোগের একটি প্রতীকী প্রকাশ। শিশুদের এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাল্টাপুর ইউনিয়নের স্লুইচগেট হয়ে ঘোড়াবান্দ-কাজল গ্রাম সড়ক, ঘোড়াবান্দ থেকে সনকাগামী সড়ক এবং ঘোড়াবান্দ থেকে কালিরহাটগামী সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদাযুক্ত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও এত বেশি কাদা জমে যে পথচারীদের হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়। যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তার কাদার কারণে প্রায়ই পিছলে পড়ে যেতে হয়। অনেক সময় পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। সড়কের এমন অবস্থার প্রতিই তারা ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের বহু মানুষ প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করেন। বর্ষা এলেই চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং সাধারণ যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
সনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য তাকে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। অনেক শিক্ষার্থী কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসে এবং অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
কাজল গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়ও বেশি লাগছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা পরিচালনায়ও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবহনচালক এ পথে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তার জানা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সড়কগুলোর উন্নয়নের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
দিনাজপুর-১ আসেনর সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, পাল্টাপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, শিশুদের এই প্রতীকী প্রতিবাদের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে