রাজধানীর ডেমরা কোনাপাড়া হাইওয়ে স্ট্যান্ডে ঘুষ বাণিজ্যের
- আপডেট সময় : ০১:৪০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
অভিযোগে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা। ট্রাক ড্রাইভারদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা নেওয়ার সময় ক্যামেরা দেখে দৌড়ে পালিয়ে যান তরিকুল নামের এক পুলিশ সদস্য—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে একাধিক ট্রাক ড্রাইভার অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিয়মিতভাবে অবৈধ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডেমরা কোনাপাড়া হাইওয়ে স্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। চালকদের দাবি, টাকা না দিলে অযথা হয়রানি, কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি, এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। ফলে প্রতিদিন বাধ্য হয়েই অনেক চালক ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ক্যামেরা দেখতে পেয়েই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য তরিকুল দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যেখানে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের, সেখানে যদি কিছু অসাধু সদস্য নিজেরাই অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে ন্যায়বিচার চাইবে?
এদিকে ট্রাক ড্রাইভারদের বক্তব্যে আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে ঘটনাটি। তাদের অভিযোগ, হাইওয়ে স্ট্যান্ডে নিয়মিতভাবেই ট্রাক থেকে টাকা তোলা হয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানেন। এসব অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু পুলিশের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থাও দুর্বল করে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের অনিয়ম আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন এই গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



















