মানবাধিকার নামের আড়ালে প্রতারণার সাম্রাজ্য! ভুয়া সংগঠনের ভুয়া মহাসচিবের মুখোশ উন্মোচনের দাবি
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
“মানবাধিকার” — শব্দটি যেখানে ন্যায়বিচার, মানবতা ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের প্রতীক, সেখানে সেই পবিত্র নামকে ব্যবহার করে প্রতারণা, অপপ্রচার ও সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে কথিত “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন” নামের একটি নিবন্ধনবিহীন সংগঠন।
অভিযোগ উঠেছে, এই তথাকথিত সংগঠনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, অফিস খরচ, অফিসের অ্যাডভান্স, কর্পোরেট সিম, পদ-পদবী, হাওলাত দেওয়ার লোভনীয় অফার, কাঠ ব্যবসাসহ নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সচেতন হওয়ার আগেই বহু মানুষ এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য মানবসেবা নয়; বরং মানুষের আবেগকে পুঁজি করে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা। কেউ যদি তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখনই শুরু হয় হুমকি, অপপ্রচার, সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন।
এই প্রতারণা ও অপপ্রচারের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে নুরুল্লাহ আল আমিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মিরপুরের কথিত মাদকাসক্ত ভুয়া মহাসচিব “চাপাবাজ মিজান”-এর নাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। এছাড়াও সাংবাদিক তাদের কথিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর থেকেই এই টি চক্র গা ঢাকা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজিম মিঞাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ গ্রুপের এক জন নারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের পর আজিম মিয়া প্রতিবাদ করেন আর এই প্রতিবাদ করায় -কে টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকেই কথিত মানবাধিকার কর্মীর পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটির কোনো বৈধ সরকারি নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া নিবন্ধন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে দেশ ও জাতিকে প্রতারণার জালে আবদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সচেতন মহলের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু সাধারণ মানুষকেই প্রতারিত করা হয়নি, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মিরপুরের কথিত “চাপাবাজ মিজান”-এর বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। এমনকি তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণা, অপপ্রচার ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি নীরব থাকেন এবং কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি।
এই ভুয়া সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকা একাধিক ব্যক্তির দাবি, “চাপাবাজ মিজান” দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত অবস্থায় বিভিন্ন গ্রুপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ইয়াবা সেবন করে দীর্ঘ সময় ধরে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে নিজেকে অতি জ্ঞানী ও মেধাবী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করতেন তিনি।
সরেজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার বিষয়টির অসংগতি বুঝতে পেরে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এই প্রতারক চক্র। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আজিম মিয়াকে টার্গেট করে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বলেন,
“অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সত্য উদঘাটনের লড়াই থেকে একচুলও পিছু হটার সুযোগ নেই। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া মানে ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় অপরাধের পথ খুলে দেওয়া।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, মানবাধিকার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও সামাজিক সন্ত্রাস চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। কারণ ভুয়া সংগঠনের আড়ালে থাকা এসব প্রতারক চক্র সমাজ ও মানবাধিকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে



















