প্রবাসীর ঘামে গড়া সংসার ভাঙছে কার হাতে? রামগঞ্জের লামচরে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক প্রবাসীর স্ত্রী, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা
- আপডেট সময় : ০১:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
“যেখানে সত্য থেমে যায়, সেখানেই প্রতিবাদী কণ্ঠ”—
এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আবারও সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরছে প্রতিবাদী কণ্ঠ।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে গভীর রাতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো এলাকাকে। সৌদি আরব প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে স্থানীয়দের হাতে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও তীব্র সামাজিক প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে ওই নারী পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গভীর রাতে বেড়ীর বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সন্দেহজনক অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে প্রবাসী স্বামী ও চার বছরের সন্তানকে রেখে ওই ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছেন বলেও এলাকায় আলোচনা চলছে।
প্রশ্নের মুখে বিবেক, কাঁদছে প্রবাসীর আত্মত্যাগ
আজ হাজারো প্রবাসী বুকের রক্ত পানি করে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে শ্রম দিচ্ছেন শুধুমাত্র পরিবারকে ভালো রাখার আশায়। কিন্তু সেই বিশ্বাসের ঘরে যদি প্রতারণার আগুন জ্বলে ওঠে, তবে একজন প্রবাসীর বেঁচে থাকার স্বপ্ন কোথায় দাঁড়ায়?
সমাজ আজ ভয়ংকর এক নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পরিবার নামক পবিত্র বন্ধন আজ অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে অবিশ্বাসের কারাগার। অর্থের জন্য স্বামী বিদেশে, আর পেছনে ভেঙে যাচ্ছে সংসার—এ যেন নীরব এক সামাজিক মহামারি।
একজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—
“প্রবাসীরা নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়। আর সেই সংসারে যদি বিশ্বাসঘাতকতা ঢুকে পড়ে, তাহলে সমাজ ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না।”
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শিশুটির ভবিষ্যৎ কোথায়?
এই ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চার বছরের শিশুটিকে নিয়ে। বাবা বিদেশে, মা নতুন সম্পর্কে—এই শিশুর মানসিক ভবিষ্যৎ, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক আশ্রয়ের দায় কে নেবে?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বলছেন নৈতিক শিক্ষার অভাব, কেউ বলছেন প্রযুক্তির অপব্যবহার, আবার কেউ দায় দিচ্ছেন পারিবারিক দূরত্ব ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে।
প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রশ্ন
প্রবাসীদের আত্মত্যাগের মূল্য কি এভাবেই প্রতারণা দিয়ে পরিশোধ হবে?
কেন দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধ?
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সমাজ কি আদৌ চিন্তিত?
নৈতিক অবক্ষয়ের এই আগুন থামাবে কে?
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, পরিবারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকটের কারণে এমন ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে সমাজ আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
প্রতিবাদী কণ্ঠ মনে করে—
প্রবাসীদের কষ্টের অর্থ শুধু টাকা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও একটি পরিবারের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ভাঙার দায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো সমাজের।



















