আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম চাপে সাধারণ মানুষ, আতঙ্কে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।
- আপডেট সময় : ১১:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আগামী মাস থেকে আবারও বাড়তে যাচ্ছে বিদ্যুতের দাম— এমন খবরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই নতুন করে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি যেন জনগণের জীবনে আরেক দফা চাপ হয়ে আসছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছে।
সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন—
যেখানে আয় বাড়ে না, সেখানে কেন বারবার বাড়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম?
কেন সব সংকটের বোঝা কেবল জনগণের কাঁধেই চাপানো হয়?
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু মাসিক বিলই বাড়বে না, এর প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে। উৎপাদন খরচ বাড়বে শিল্পকারখানায়, বাড়বে পরিবহন ব্যয়, যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়বে বাজারের প্রতিটি পণ্যের ওপর। অর্থাৎ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মানেই নতুন করে দ্রব্যমূল্যের আগুন।
রাজধানীর এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“মাস শেষে বেতন পাই, কিন্তু সেই টাকা বাজার, বাড়িভাড়া আর বিদ্যুৎ বিল দিতেই শেষ হয়ে যায়। এখন আবার দাম বাড়লে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। কৃষকরা বলছেন, সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুতের খরচ বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। ফলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুতের বিল বাড়লে দোকান ও ছোট ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই বাধ্য হয়ে কর্মচারী ছাঁটাই কিংবা ব্যবসা বন্ধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রতিবাদী প্রশ্ন
রাষ্ট্র কি শুধুই বিল বাড়ানোর দায়িত্ব নেবে?
জনগণের কষ্ট, বেকারত্ব আর জীবনযুদ্ধের দায় কে নেবে?
যেখানে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বারবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি কতটা মানবিক?
বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক জীবনের মৌলিক প্রয়োজন। অথচ বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে যেন ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সংকটের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবাদী কণ্ঠের আহ্বান
জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনা না করে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কখনোই জনবান্ধব হতে পারে না। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি না করে টেকসই ও জবাবদিহিমূলক নীতি গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে সচেতন মহল।



















