সর্বশেষ
নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ সফল অস্ত্রোপচারের পর আশার আলো: সুস্থতার পথে ছোট্ট সাইফা। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শহিদুল্লাহর পিতা আবুল কাশেম মিয়া ইন্তেকাল। আতাউর রহমান হুমায়ুন কবিরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কাজিপুরের গান্ধাইলবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহারের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ড. আব্দুস সাত্তার পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব : “প্রতিবাদী কণ্ঠ” লেখা জার্সি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রক্তসৈনিক ও সমাজসেবক সুমন রাফি

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। জমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে—এই অফিস এখন যেন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দালালচক্রের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা—যা স্থানীয়ভাবে ‘টেবিল মানি’ নামে পরিচিত—না দিলে কোনো ফাইলই নড়ছে না। এমনকি নির্দিষ্ট দালালদের মাধ্যমে না গেলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে।
দলিল লেখকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, “আমরা একটি প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক।”
অভিযোগ আরও গুরুতর—জমির শ্রেণী পরিবর্তন, ভুয়া দাতা দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি, রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাভারের বিলামালিয়া ও বড়বরদেশী মৌজায় ‘সিলিকন সিটি’ প্রকল্পের জমি নিবন্ধন ও মিউটেশন নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞার কাগজ পাননি।
অন্যদিকে, তার সম্পদের উৎস নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট, মিরপুরে বহুতল ভবন নির্মাণ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ব্যাপক জমি ক্রয় এবং একাধিক ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন—সব মিলিয়ে তার জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাভারে পদায়ন বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তও প্রভাব খাটিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, ছাত্রজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, “আমি অফিসে যোগদানের পর অনিয়ম কমানোর চেষ্টা করেছি। যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার সম্পদ আগেরই।”
তবে সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “আমরাও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কাগজে সই নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে।”
সব মিলিয়ে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চলমান এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সচেতন মহলের দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা

আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। জমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে—এই অফিস এখন যেন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দালালচক্রের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা—যা স্থানীয়ভাবে ‘টেবিল মানি’ নামে পরিচিত—না দিলে কোনো ফাইলই নড়ছে না। এমনকি নির্দিষ্ট দালালদের মাধ্যমে না গেলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে।
দলিল লেখকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, “আমরা একটি প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক।”
অভিযোগ আরও গুরুতর—জমির শ্রেণী পরিবর্তন, ভুয়া দাতা দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি, রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাভারের বিলামালিয়া ও বড়বরদেশী মৌজায় ‘সিলিকন সিটি’ প্রকল্পের জমি নিবন্ধন ও মিউটেশন নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞার কাগজ পাননি।
অন্যদিকে, তার সম্পদের উৎস নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট, মিরপুরে বহুতল ভবন নির্মাণ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ব্যাপক জমি ক্রয় এবং একাধিক ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন—সব মিলিয়ে তার জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাভারে পদায়ন বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তও প্রভাব খাটিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, ছাত্রজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, “আমি অফিসে যোগদানের পর অনিয়ম কমানোর চেষ্টা করেছি। যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার সম্পদ আগেরই।”
তবে সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “আমরাও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কাগজে সই নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে।”
সব মিলিয়ে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চলমান এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সচেতন মহলের দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।