গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
- আপডেট সময় : ১২:২৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জ্বালানি তেল সংকটকে পুঁজি করে কালোবাজারি করার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কাটগড়া হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল মতিন নামের ওই শিক্ষককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমেন পাল। একইসঙ্গে তার ভাড়া বাসা থেকে ১৩ লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা অকটেন জব্দ করা হয়।
জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল মতিন মিঠাপুকুর উপজেলার মাঠের হাট আব্দুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাটগড়া হাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে আড়ালে তিনি জ্বালানি তেলের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সম্প্রতি এলাকায় তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তিনি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের বাসায় পেট্রোল ও অকটেন মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি শুরু করেন। বিষয়টি গোপনে নজরদারিতে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য সাধারণ ক্রেতা সেজে তার কাছ থেকে বেশি দামে দুই লিটার অকটেন ক্রয় করেন। প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরপরই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাজিস্ট্রেট রমেন পাল ও পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বাসা তল্লাশি করে ১৩ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয় এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একজন শিক্ষক—যিনি সমাজে নৈতিকতার দৃষ্টান্ত হওয়ার কথা—তার এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করছে, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।




















