সর্বশেষ
এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ নওগাঁর বদলগাছীতে ভ্যানচালক মিঠু হত্যা: রহস্য উদঘাটনের দাবি, আটক ১ “প্রচলিত শিক্ষার বাইরে নতুন দিগন্ত: হালিশহরে সমন্বিত প্রজন্ম গঠনের মডেল” মাঠে খেলা, শেরপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা ও লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত

প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে সরকারি লিজ নেওয়া জমি দখল করে প্রকাশ্যে ঘর নির্মাণের ঘটনায় এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি পক্ষ আইনের তোয়াক্কা না করে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বালিয়াটি মৌজার ৫২৯/৬২৮ দাগের ০.০৫ একর এবং ৫২৯/৬২৭ দাগের ০.০২ একরসহ মোট ০.০৭ একর সরকারি জমি নিয়ম মেনে লিজ গ্রহণ করেন নার্গিস আক্তার। তিনি নির্ধারিত ২,২৭২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বৈধ রশিদ সংগ্রহ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে পরিবারটি সাময়িকভাবে বাড়ির বাইরে অবস্থান করলে একই এলাকার বাছেদ (পিতা: হাসেন আলী) সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে এবং দ্রুত ঘর নির্মাণ শুরু করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করে নার্গিস আক্তারের লিজ বৈধ বলে নিশ্চিত করেন। সেইসঙ্গে অভিযুক্তকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করে দখলদার পক্ষ এখনও জমিতে অবস্থান করছে এবং নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, “যেখানে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমি উদ্ধার হয় না, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে প্রভাবশালীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার বলেন, “আমি সরকারি নিয়ম মেনে জমি লিজ নিয়েছি, প্রশাসনও আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবুও দখলদাররা প্রকাশ্যে আইন অমান্য করছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।”
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের স্পষ্ট আহ্বান—অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নইলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১২:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে সরকারি লিজ নেওয়া জমি দখল করে প্রকাশ্যে ঘর নির্মাণের ঘটনায় এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি পক্ষ আইনের তোয়াক্কা না করে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বালিয়াটি মৌজার ৫২৯/৬২৮ দাগের ০.০৫ একর এবং ৫২৯/৬২৭ দাগের ০.০২ একরসহ মোট ০.০৭ একর সরকারি জমি নিয়ম মেনে লিজ গ্রহণ করেন নার্গিস আক্তার। তিনি নির্ধারিত ২,২৭২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বৈধ রশিদ সংগ্রহ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে পরিবারটি সাময়িকভাবে বাড়ির বাইরে অবস্থান করলে একই এলাকার বাছেদ (পিতা: হাসেন আলী) সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে এবং দ্রুত ঘর নির্মাণ শুরু করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করে নার্গিস আক্তারের লিজ বৈধ বলে নিশ্চিত করেন। সেইসঙ্গে অভিযুক্তকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করে দখলদার পক্ষ এখনও জমিতে অবস্থান করছে এবং নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, “যেখানে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমি উদ্ধার হয় না, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে প্রভাবশালীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার বলেন, “আমি সরকারি নিয়ম মেনে জমি লিজ নিয়েছি, প্রশাসনও আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবুও দখলদাররা প্রকাশ্যে আইন অমান্য করছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।”
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের স্পষ্ট আহ্বান—অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নইলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।