সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

২৫০ শয্যার নামে কেবল ৫০ শয্যার জনবল! অব্যবস্থাপনায় নাকাল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে


চিকিৎসাসেবা যেখানে মানুষের প্রাথমিক অধিকার, সেখানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র ঠিক তার উল্টো। সরকারি কাগজে ২৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে হাসপাতালটি চলছে মাত্র ৫০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন জেলার সাত উপজেলার হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা।

চরম জনবল সংকট:
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ রহমান জানান, “এই হাসপাতাল বাস্তবিক অর্থে পরিচালিত হচ্ছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে, আর সেই জনবলেরও প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা:
প্রতিদিন গড়ে ৭০০–৮০০ রোগী আউটডোর এবং ৩০০ রোগী ইনডোর বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সেবা পাওয়া দূরের কথা, রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও হতাশ হয়ে ফিরছেন বাড়ি। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেলেও ডাক্তার আসেন না। সরকারি তালিকায় থাকা ওষুধও সরবরাহ করা হয় না, বাইরে থেকে কিনতে হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি থেকে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, “টিকিট পেতে অনেক কষ্ট করেও চিকিৎসক না থাকায় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। টাকার অভাবে প্রাইভেট চেম্বারে দেখানোও সম্ভব না।”

ভর্তি রোগীদের অবস্থা আরও করুণ:
বেড সংকটের কারণে অনেককে বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। রোগীর যত্ন, সঠিক পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণের সুযোগ নেই।
পলাশবাড়ির লাবনী বেগম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আমার চাচিকে দুই দিন আগে ভর্তি করা হয়েছে। একবার জরুরি বিভাগে দেখে যাওয়ার পর আর কোনো চিকিৎসক আসেননি। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন, কিন্তু কেউ দেখছে না।”

নোংরা পরিবেশ ও ওষুধ সংকট:
হাসপাতালজুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ময়লার স্তূপ, পানির সমস্যাসহ রয়েছে নানা অব্যবস্থা। ওষুধের সংকট এতটাই প্রকট যে, ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে লিখলেও তা কাউন্টার থেকে পাওয়া যায় না। একটি স্লিপে পাঁচটি ওষুধ থাকলেও রোগীরা পান হয়তো একটি বা দুটি।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দাবি:
স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, “যে জায়গায় সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে মানুষের জীবন, সেখানে যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”

এমন অব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সম্পূর্ণ জনবল নিশ্চিত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২৫০ শয্যার নামে কেবল ৫০ শয্যার জনবল! অব্যবস্থাপনায় নাকাল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৭:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫


চিকিৎসাসেবা যেখানে মানুষের প্রাথমিক অধিকার, সেখানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র ঠিক তার উল্টো। সরকারি কাগজে ২৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে হাসপাতালটি চলছে মাত্র ৫০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন জেলার সাত উপজেলার হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা।

চরম জনবল সংকট:
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ রহমান জানান, “এই হাসপাতাল বাস্তবিক অর্থে পরিচালিত হচ্ছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে, আর সেই জনবলেরও প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা:
প্রতিদিন গড়ে ৭০০–৮০০ রোগী আউটডোর এবং ৩০০ রোগী ইনডোর বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সেবা পাওয়া দূরের কথা, রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও হতাশ হয়ে ফিরছেন বাড়ি। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেলেও ডাক্তার আসেন না। সরকারি তালিকায় থাকা ওষুধও সরবরাহ করা হয় না, বাইরে থেকে কিনতে হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি থেকে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, “টিকিট পেতে অনেক কষ্ট করেও চিকিৎসক না থাকায় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। টাকার অভাবে প্রাইভেট চেম্বারে দেখানোও সম্ভব না।”

ভর্তি রোগীদের অবস্থা আরও করুণ:
বেড সংকটের কারণে অনেককে বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। রোগীর যত্ন, সঠিক পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণের সুযোগ নেই।
পলাশবাড়ির লাবনী বেগম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আমার চাচিকে দুই দিন আগে ভর্তি করা হয়েছে। একবার জরুরি বিভাগে দেখে যাওয়ার পর আর কোনো চিকিৎসক আসেননি। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন, কিন্তু কেউ দেখছে না।”

নোংরা পরিবেশ ও ওষুধ সংকট:
হাসপাতালজুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ময়লার স্তূপ, পানির সমস্যাসহ রয়েছে নানা অব্যবস্থা। ওষুধের সংকট এতটাই প্রকট যে, ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে লিখলেও তা কাউন্টার থেকে পাওয়া যায় না। একটি স্লিপে পাঁচটি ওষুধ থাকলেও রোগীরা পান হয়তো একটি বা দুটি।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দাবি:
স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, “যে জায়গায় সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে মানুষের জীবন, সেখানে যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”

এমন অব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সম্পূর্ণ জনবল নিশ্চিত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।