সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

২৫০ শয্যার নামে কেবল ৫০ শয্যার জনবল! অব্যবস্থাপনায় নাকাল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে


চিকিৎসাসেবা যেখানে মানুষের প্রাথমিক অধিকার, সেখানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র ঠিক তার উল্টো। সরকারি কাগজে ২৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে হাসপাতালটি চলছে মাত্র ৫০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন জেলার সাত উপজেলার হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা।

চরম জনবল সংকট:
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ রহমান জানান, “এই হাসপাতাল বাস্তবিক অর্থে পরিচালিত হচ্ছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে, আর সেই জনবলেরও প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা:
প্রতিদিন গড়ে ৭০০–৮০০ রোগী আউটডোর এবং ৩০০ রোগী ইনডোর বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সেবা পাওয়া দূরের কথা, রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও হতাশ হয়ে ফিরছেন বাড়ি। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেলেও ডাক্তার আসেন না। সরকারি তালিকায় থাকা ওষুধও সরবরাহ করা হয় না, বাইরে থেকে কিনতে হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি থেকে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, “টিকিট পেতে অনেক কষ্ট করেও চিকিৎসক না থাকায় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। টাকার অভাবে প্রাইভেট চেম্বারে দেখানোও সম্ভব না।”

ভর্তি রোগীদের অবস্থা আরও করুণ:
বেড সংকটের কারণে অনেককে বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। রোগীর যত্ন, সঠিক পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণের সুযোগ নেই।
পলাশবাড়ির লাবনী বেগম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আমার চাচিকে দুই দিন আগে ভর্তি করা হয়েছে। একবার জরুরি বিভাগে দেখে যাওয়ার পর আর কোনো চিকিৎসক আসেননি। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন, কিন্তু কেউ দেখছে না।”

নোংরা পরিবেশ ও ওষুধ সংকট:
হাসপাতালজুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ময়লার স্তূপ, পানির সমস্যাসহ রয়েছে নানা অব্যবস্থা। ওষুধের সংকট এতটাই প্রকট যে, ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে লিখলেও তা কাউন্টার থেকে পাওয়া যায় না। একটি স্লিপে পাঁচটি ওষুধ থাকলেও রোগীরা পান হয়তো একটি বা দুটি।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দাবি:
স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, “যে জায়গায় সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে মানুষের জীবন, সেখানে যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”

এমন অব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সম্পূর্ণ জনবল নিশ্চিত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২৫০ শয্যার নামে কেবল ৫০ শয্যার জনবল! অব্যবস্থাপনায় নাকাল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৭:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫


চিকিৎসাসেবা যেখানে মানুষের প্রাথমিক অধিকার, সেখানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র ঠিক তার উল্টো। সরকারি কাগজে ২৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে হাসপাতালটি চলছে মাত্র ৫০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন জেলার সাত উপজেলার হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা।

চরম জনবল সংকট:
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ রহমান জানান, “এই হাসপাতাল বাস্তবিক অর্থে পরিচালিত হচ্ছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে, আর সেই জনবলেরও প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা:
প্রতিদিন গড়ে ৭০০–৮০০ রোগী আউটডোর এবং ৩০০ রোগী ইনডোর বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সেবা পাওয়া দূরের কথা, রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও হতাশ হয়ে ফিরছেন বাড়ি। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেলেও ডাক্তার আসেন না। সরকারি তালিকায় থাকা ওষুধও সরবরাহ করা হয় না, বাইরে থেকে কিনতে হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি থেকে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, “টিকিট পেতে অনেক কষ্ট করেও চিকিৎসক না থাকায় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। টাকার অভাবে প্রাইভেট চেম্বারে দেখানোও সম্ভব না।”

ভর্তি রোগীদের অবস্থা আরও করুণ:
বেড সংকটের কারণে অনেককে বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। রোগীর যত্ন, সঠিক পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণের সুযোগ নেই।
পলাশবাড়ির লাবনী বেগম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আমার চাচিকে দুই দিন আগে ভর্তি করা হয়েছে। একবার জরুরি বিভাগে দেখে যাওয়ার পর আর কোনো চিকিৎসক আসেননি। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন, কিন্তু কেউ দেখছে না।”

নোংরা পরিবেশ ও ওষুধ সংকট:
হাসপাতালজুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ময়লার স্তূপ, পানির সমস্যাসহ রয়েছে নানা অব্যবস্থা। ওষুধের সংকট এতটাই প্রকট যে, ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে লিখলেও তা কাউন্টার থেকে পাওয়া যায় না। একটি স্লিপে পাঁচটি ওষুধ থাকলেও রোগীরা পান হয়তো একটি বা দুটি।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দাবি:
স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, “যে জায়গায় সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে মানুষের জীবন, সেখানে যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”

এমন অব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সম্পূর্ণ জনবল নিশ্চিত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।