সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

শিক্ষকের কুপ্রস্তাবে অতিষ্ঠ ছাত্রী, আগুন দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা — সহপাঠীসহ দুজন আশঙ্কাজনক

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশায় শিক্ষকের লাগাতার কুপ্রস্তাব ও হুমকির মুখে পড়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কলেজছাত্রী। ভয়াবহ এ ঘটনায় মেয়েটির শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে এক সহপাঠীও দগ্ধ হন, যার শরীরের ৭০ শতাংশ ঝলসে গেছে। দুজনই বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (১২ জুলাই) ফকির মোহন কলেজে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে।

লাগাতার কুপ্রস্তাব ও হুমকি

ওই কলেজছাত্রী অভিযোগ করেছেন, তার বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহু বেশ কিছুদিন ধরে তাকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষক তাকে পরীক্ষায় ফেল করানো ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন।

গত ১ জুলাই তিনি কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তাতে উল্লেখ করেন, সাহু নিয়মিত তাকে হয়রানি করছেন। তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করে, ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

আগুন লাগানোর আগে বিক্ষোভ

ঘটনার দিন (১২ জুলাই) ওই ছাত্রী ও অন্যান্য শিক্ষার্থী কলেজের গেটের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। হঠাৎ তিনি অধ্যক্ষের কার্যালয়ের কাছাকাছি গিয়ে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। উপস্থিত সহপাঠীরা তাকে বাঁচাতে ছুটে যান।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আগুন লাগার পর ছাত্রীটি করিডোরের দিকে দৌড়ে যান। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক সহপাঠীর গায়ে আগুন লেগে যায়। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কলেজকর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

কলেজ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ জানান, “ছাত্রীটি সকালে আমার কাছে এসে মানসিক চাপে থাকার কথা বলে সাহুকে অফিসে ডাকার অনুরোধ করে। আমি উভয়পক্ষকে ডেকে স্পষ্ট বলি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক সাহু অভিযোগ অস্বীকার করলেও ছাত্রী তার অভিযোগে অটল ছিলেন।”

শিক্ষক গ্রেপ্তার, তদন্ত চলছে

ঘটনার পর কলেজে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত সমীর কুমার সাহুকে গ্রেপ্তার করে।

ওড়িশার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং কলেজ অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বালাসোরের পুলিশ সুপার রাজ প্রসাদ জানান, “ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। ছাত্রী ও আহত সহপাঠীকে ভুবনেশ্বরের এইমসে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।”

মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ

এ ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ভয়ানক হয়রানি ও অনৈতিক আচরণ শিক্ষার্থীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষকের কুপ্রস্তাবে অতিষ্ঠ ছাত্রী, আগুন দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা — সহপাঠীসহ দুজন আশঙ্কাজনক

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশায় শিক্ষকের লাগাতার কুপ্রস্তাব ও হুমকির মুখে পড়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কলেজছাত্রী। ভয়াবহ এ ঘটনায় মেয়েটির শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে এক সহপাঠীও দগ্ধ হন, যার শরীরের ৭০ শতাংশ ঝলসে গেছে। দুজনই বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (১২ জুলাই) ফকির মোহন কলেজে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে।

লাগাতার কুপ্রস্তাব ও হুমকি

ওই কলেজছাত্রী অভিযোগ করেছেন, তার বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহু বেশ কিছুদিন ধরে তাকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষক তাকে পরীক্ষায় ফেল করানো ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন।

গত ১ জুলাই তিনি কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তাতে উল্লেখ করেন, সাহু নিয়মিত তাকে হয়রানি করছেন। তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করে, ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

আগুন লাগানোর আগে বিক্ষোভ

ঘটনার দিন (১২ জুলাই) ওই ছাত্রী ও অন্যান্য শিক্ষার্থী কলেজের গেটের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। হঠাৎ তিনি অধ্যক্ষের কার্যালয়ের কাছাকাছি গিয়ে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। উপস্থিত সহপাঠীরা তাকে বাঁচাতে ছুটে যান।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আগুন লাগার পর ছাত্রীটি করিডোরের দিকে দৌড়ে যান। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক সহপাঠীর গায়ে আগুন লেগে যায়। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কলেজকর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

কলেজ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ জানান, “ছাত্রীটি সকালে আমার কাছে এসে মানসিক চাপে থাকার কথা বলে সাহুকে অফিসে ডাকার অনুরোধ করে। আমি উভয়পক্ষকে ডেকে স্পষ্ট বলি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক সাহু অভিযোগ অস্বীকার করলেও ছাত্রী তার অভিযোগে অটল ছিলেন।”

শিক্ষক গ্রেপ্তার, তদন্ত চলছে

ঘটনার পর কলেজে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত সমীর কুমার সাহুকে গ্রেপ্তার করে।

ওড়িশার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং কলেজ অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বালাসোরের পুলিশ সুপার রাজ প্রসাদ জানান, “ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। ছাত্রী ও আহত সহপাঠীকে ভুবনেশ্বরের এইমসে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।”

মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ

এ ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ভয়ানক হয়রানি ও অনৈতিক আচরণ শিক্ষার্থীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।