সর্বশেষ
নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন শাহিনের ইন্তেকাল, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন মোবাইল_কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনকারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড আইজিপির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ সালথায় পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার: ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তারেক অবশেষে পুলিশের জালে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান

মাঠে ছাতা দিয়ে ব্যান্ডেজ! কলকাতা লিগে তারক হেমব্রমের চোটে চিকিৎসা–নিরাপত্তার করুণ চিত্র

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

কলকাতা লিগে মোহনবাগান দুর্দান্ত ছন্দে ফিরলেও সোমবারের (৮ জুলাই) ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল না জয় কিংবা গোল—মূল বিষয় হয়ে উঠেছিল এক ফুটবলারের চোট ও সেই সঙ্গে চিকিৎসা সেবার অভাবজনিত অব্যবস্থাপনা।

রেলওয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের দিনে মোহনবাগান প্রথমার্ধেই লিড নেয়। রেলওয়ের গোলরক্ষক সুদীপ্ত ঘোষের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করেন সন্দীপ মালিক। কর্দমাক্ত মাঠে বলের গতি ভুল বুঝে এগিয়ে আসেন সুদীপ্ত, তার সামনে থেকে বল ছিনিয়ে দেন সালাউদ্দিন এবং সন্দীপ ফাঁকা পোস্টে বল পাঠিয়ে দেন।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে ওঠে। রেফারি দেখান তিনটি লাল কার্ড—মোহনবাগানের সালাউদ্দিন ও রেলের দুই খেলোয়াড় সুদীপ্ত ও সন্দীপ বহিষ্কৃত হন। হলুদ কার্ডও দেখানো হয় একাধিকবার। খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধও থাকে। শেষ দিকে পরিবর্ত খেলোয়াড় শিবম মুন্ডা গোল করে ব্যবধান ২-০ তে নিয়ে যান।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে করুণ দৃশ্যটি দেখা যায় রেলের ফুটবলার তারক হেমব্রম চোট পাওয়ার পর।

প্রথমার্ধে সংঘর্ষের জেরে তারক মারাত্মকভাবে আহত হন। মাঠেই বোঝা যায়, চোট গুরুতর। অথচ কোনো প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মী বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না মাঠে। হতবাক দর্শকেরা দেখতে পান, ছাতা দিয়ে দু’পাশ থেকে তার পা বেঁধে তাকে বাইরে নেওয়া হচ্ছে। এই অমানবিক দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

প্রাথমিকভাবে তাকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মাঠে থাকা একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স সরিয়ে নিতে আয়োজকরা দ্বিধায় পড়েন। পরে দ্বিতীয় অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হলেও সেটি আসতে দেরি হয়। অবশেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়।

প্রশ্ন উঠছে—একটি বড় লিগ ম্যাচে কেন ন্যূনতম চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়নি? খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে এত উদাসীনতা কেন?

মোহনবাগান মাঠে জয় পেলেও ম্যাচ শেষে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তারক হেমব্রমের চোট ও চিকিৎসা সেবার করুণ চিত্র। ক্রীড়ামহলে দাবি উঠছে—এমন অব্যবস্থাপনার দায় নিতে হবে আয়োজকদের এবং ভবিষ্যতের জন্য নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাঠে ছাতা দিয়ে ব্যান্ডেজ! কলকাতা লিগে তারক হেমব্রমের চোটে চিকিৎসা–নিরাপত্তার করুণ চিত্র

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

কলকাতা লিগে মোহনবাগান দুর্দান্ত ছন্দে ফিরলেও সোমবারের (৮ জুলাই) ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল না জয় কিংবা গোল—মূল বিষয় হয়ে উঠেছিল এক ফুটবলারের চোট ও সেই সঙ্গে চিকিৎসা সেবার অভাবজনিত অব্যবস্থাপনা।

রেলওয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের দিনে মোহনবাগান প্রথমার্ধেই লিড নেয়। রেলওয়ের গোলরক্ষক সুদীপ্ত ঘোষের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করেন সন্দীপ মালিক। কর্দমাক্ত মাঠে বলের গতি ভুল বুঝে এগিয়ে আসেন সুদীপ্ত, তার সামনে থেকে বল ছিনিয়ে দেন সালাউদ্দিন এবং সন্দীপ ফাঁকা পোস্টে বল পাঠিয়ে দেন।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে ওঠে। রেফারি দেখান তিনটি লাল কার্ড—মোহনবাগানের সালাউদ্দিন ও রেলের দুই খেলোয়াড় সুদীপ্ত ও সন্দীপ বহিষ্কৃত হন। হলুদ কার্ডও দেখানো হয় একাধিকবার। খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধও থাকে। শেষ দিকে পরিবর্ত খেলোয়াড় শিবম মুন্ডা গোল করে ব্যবধান ২-০ তে নিয়ে যান।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে করুণ দৃশ্যটি দেখা যায় রেলের ফুটবলার তারক হেমব্রম চোট পাওয়ার পর।

প্রথমার্ধে সংঘর্ষের জেরে তারক মারাত্মকভাবে আহত হন। মাঠেই বোঝা যায়, চোট গুরুতর। অথচ কোনো প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মী বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না মাঠে। হতবাক দর্শকেরা দেখতে পান, ছাতা দিয়ে দু’পাশ থেকে তার পা বেঁধে তাকে বাইরে নেওয়া হচ্ছে। এই অমানবিক দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

প্রাথমিকভাবে তাকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মাঠে থাকা একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স সরিয়ে নিতে আয়োজকরা দ্বিধায় পড়েন। পরে দ্বিতীয় অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হলেও সেটি আসতে দেরি হয়। অবশেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়।

প্রশ্ন উঠছে—একটি বড় লিগ ম্যাচে কেন ন্যূনতম চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়নি? খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে এত উদাসীনতা কেন?

মোহনবাগান মাঠে জয় পেলেও ম্যাচ শেষে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তারক হেমব্রমের চোট ও চিকিৎসা সেবার করুণ চিত্র। ক্রীড়ামহলে দাবি উঠছে—এমন অব্যবস্থাপনার দায় নিতে হবে আয়োজকদের এবং ভবিষ্যতের জন্য নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ।