নেত্রকোনায় তেল পাম্পে তীব্র সংকট ভোগান্তি বাইক মালিকরা
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
শংকর চন্দ্র সরকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি; নেত্রকোনা জেলা সকল উপজেলায় তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, তেল আছে, তেল নেই: একটি ‘তেলবাজি’ মহাকাব্য’ ভোর ৪টা। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস নয়, নাকে আসছে পোড়া ডিজেল আর পেট্রোলের সুবাস। বাংলাদেশ কি তবে তেল বিতরণে বিশ্বে প্রথম হতে চলেছে? দায়িত্বশীলদের কথায় তেলের নদী বয়ে যাচ্ছে, আর পাম্পে এসে দেখছি সেই নদী শুকিয়ে মরুভূমি। এক ফোঁটা তেলের জন্য পাম্পের সামনে রাত কাটানো এখন যেন এক নতুন ‘পিকনিক’। মশারি টাঙিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাটাই শুধু বাকি।বাইক মালিকরা সময় মত চাকরি ক্ষেত্রে যেতে পারছে না, আবার কেউ কেউ বাইকের উপর নির্ভর করে সংসার চালায় তাও পারছে না। চারপাশে শত শত মোটরযান, যেন এখানে কোনো আন্তর্জাতিক হর্ন উৎসব চলছে। কারো হর্ন সুরেলা, কারোটা কর্কশ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ‘সিম্ফনি’। পিছন থেকে অবিরাম চিৎকার ভেসে আসছে— ওস্তাদ, সামনে টানো, টানো… আরো টানো। ভাইরে, সামনে তো গাড়ি, না? সামনে তো অনিশ্চয়তা, টানবো কেমনে? ইঞ্জিনের শব্দ আর মানুষের চিৎকারে মনে হচ্ছে, তেলের পাম্প নয়, আমরা বুঝি কোনো মহাকাশ অভিযানের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেলের গোলকধাঁধা কর্তৃপক্ষ বলছেন, “তেল আছে, ভয়ের কিছু নেই।” আর পাম্পের মালিক বলছেন, “তেল নাই, সাপ্লাই নাই।” মাঝখানে আমরা সাধারণ পাবলিক তেলের ড্রাম আর বাইক নিয়ে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলছি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ভোর ৪টা থেকে এখন সকাল ৯টা। গাড়ি একটুও নড়েনি, কিন্তু আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ঠিকই নড়ে গেছে। বা! কি চমৎকার দৃশ্য! এক ফোঁটা তেলের জন্য সারা রাত পাম্পে যাপন—এ যেন এক আধুনিক ত্যাগের মহিমা। ডিজিটাল যুগে তেলের জন্য এই এনালগ লাইন আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুনিয়া এগোলেও আমরা এখনো সেই ‘লাইন মারার’ যুগেই পড়ে আছি। দেশের তেলের অভাব থাকুক আর না থাকুক, আমাদের এই ‘লাইনের কষ্ট’ নিয়ে রসিকতা করার তেলের (ধৈর্যের) অভাব যেন কোনোদিন না হয়।



















