চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিকৃত ভিডিও’ ছড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে দোকান ভাড়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার প্রকাশ্যে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সিসিটিভি ফুটেজের একটি অংশ। তবে অভিযোগ উঠেছে—ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলছে।
জানা যায়, হকার্স মার্কেটের ৫৬৬ নম্বর দোকানঘর, বর্তমানে “শাহী বিরিয়ানী হাউজ এন্ড রেস্টুরেন্ট” নামে পরিচালিত, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বছরের জন্য ভাড়া দেন “এরাবিয়ান টেইলার্স এন্ড শাড়ী বিতান”-এর স্বত্বাধিকারী হাজী মুহাম্মদ আবুল হোসেন। চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম নেওয়া হয় ১ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২২ হাজার টাকা। প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধের শর্তও চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
দোকান মালিক আবুল হোসেনের অভিযোগ, শুরুতে কয়েক মাস ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে ভাড়া বকেয়া পড়তে থাকে। একাধিকবার অনুরোধ ও তাগাদা দেওয়ার পরও ভাড়াটিয়া পক্ষ বকেয়া পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তার দাবি, গত ১৪ মে বিকেলে তিনি পাওনা ভাড়ার বিষয়ে কথা বলতে দোকানে গেলে ভাড়াটিয়া পক্ষের রফিকুল ইসলাম রনি তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।
কিন্তু ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটির সাউন্ড ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রেখে এবং ঘটনার আংশিক অংশ প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে আবুল হোসেনকে একতরফাভাবে অভিযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হোসেন বলেন,
“আমি আমার পাওনা ভাড়া চাইতে গিয়েছিলাম। অথচ এখন আমাকে অপরাধী বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখে ভিডিও ছড়ানো স্পষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
অন্যদিকে ভাড়াটিয়া আমির হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়ে গেলেও বিষয়টি তিনি মালিককে জানিয়েছিলেন এবং ঈদের আগেই পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তিনি দোকানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।
এদিকে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন এমন এক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের আগেই মানুষকে দোষী বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আংশিক ভিডিও, কাটা-ছেঁড়া তথ্য ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—
কেন পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হলো না? কেন সাউন্ডবিহীন ফুটেজ ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলো?
স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রশ্ন:
সত্য গোপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে হেয় করার এই সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে? সত্য উদঘাটনের আগেই বিচার হয়ে যাওয়া কি এখন নতুন সামাজিক বাস্তবতা




















