রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিভাগে ১৪ উদ্যোগ বাস্তবায়ন, আটকে আছে ক্যাম্পাস অ্যাপ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
:ইশতেহারের ৯০ শতাংশ বাস্তবায়নের দাবি রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিভাগের
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসসেবা সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তথ্য ও গবেষণা বিভাগ। এক বছরে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি করেছে বিভাগটি। তবে কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধতা থাকলেও এ পর্যন্ত ১৪টি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিভাগের সম্পন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের ওয়েবসাইট, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক ওয়েবিনার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মশালা, আইইএলটিএস কোর্স, গবেষণা প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা। ওয়েবিনারে হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডের বিভিন্ন শিক্ষকের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে বিভাগটি। এ ছাড়া ‘AI for Study’ শীর্ষক দুটি অনলাইন ও অফলাইন কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন, গবেষণায় প্রণোদনা ও ক্যাম্পাসসেবা উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে ‘Research Methodology Course’-এর আওতায় দুই ব্যাচে বাছাই করা ২০০ শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের গবেষণায় প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একজন মার্কিন প্রশিক্ষকের সহযোগিতায় ‘Pre-IELTS Spoken Course’-এর দুটি অনলাইন ব্যাচে বাছাই করা ২০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে অনলাইনে আইইএলটিএস কোর্স করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দিতে দুই দিনব্যাপী ‘International Education Expo’ আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে বিনা মূল্যে পরামর্শসেবা দেওয়া হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরামর্শ ও সমস্যা রাকসুর কাছে পৌঁছে দিতে ‘রাকসু কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড অ্যাডভাইস সেন্টার’ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যক্রম প্রশাসনিকভাবে চালু, পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরবিহীন পদ্ধতি প্রবর্তন এবং কোডিংয়ের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বিভাগটির তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (টিএ) ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (আরএ) বাবদ নতুন খাত যুক্ত করার উদ্যোগও সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ‘Speak Up, Stay Strong and Take Action Against Cyber Bullying’ শীর্ষক সেমিনারে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে। তবে ‘RU Campus App’ ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট চালুর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। অন্যদিকে, ইশতেহারে থাকা ‘Teachers Exchange Program’ চালুর উদ্যোগটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইউসুফ শেখ বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা সত্ত্বেও বিভাগটির কার্যক্রম সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ছিল এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তবে কর্মসূচিগুলোতে আরও বেশি কথোপকথনের অনুশীলন, ব্যক্তিগত দক্ষতাভিত্তিক পরামর্শ, হাতে-কলমে শিক্ষা ও দক্ষতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হতো।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম ফাহিম বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এক বছরে ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। বিনা মূল্যে আইইএলটিএস, স্পোকেন ইংলিশ, আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা ও গবেষণাবিষয়ক প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেনারি ও এনিমেল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম জানান, বিভাগটির উদ্যোগগুলো বেশ প্রশংসনীয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা অনুযায়ী দিকনির্দেশনা, পর্যাপ্ত অনুশীলন ও কার্যকর মূল্যায়নের সুযোগ সীমিত ছিল। ভবিষ্যতে এসব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে কার্যক্রমগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে।
সার্বিক বিষয়ে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি. এম. নাজমুছ সাকিব বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষ করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব স্যার গবেষণায় প্রণোদনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সিসিডিসির পাশাপাশি সেন্ট্রাল সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাও পরিচালকের সদিচ্ছার অভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।’
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, তথ্য ও গবেষণা বিভাগের প্রায় সব কাজই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি উদ্যোগটির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন জরুরি। তবে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও উপাচার্য পর্যায়ে বিষয়টি আটকে থাকায় এখনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।


















