সর্বশেষ
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি শার্শা ও বেনাপোলে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় : পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতিসহ যৌথ ব্রিফিং সভা অনুষ্ঠিত জমির বাউন্ডারি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি? সৌদি প্রবাসী আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ নালিতাবাড়ীতে একুশে পাঠচক্রের আসরে স্মরণ করা হলো ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ সেকান্দার আলী তালুকদারকে ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ।

জমির বাউন্ডারি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি? সৌদি প্রবাসী আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

 

 

নিজ জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাংবাদিক মোহাম্মদ আজিম মিঞাকে সৌদি আরব থেকে মেসেঞ্জারে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আফ্রিদি আহমেদ ফয়সালের বিরুদ্ধে। গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক আজিম মিঞা। তাঁর ভাষ্য, হুমকি ও গালাগালসংক্রান্ত কথোপকথনের স্ক্রিনশট তিনি সংরক্ষণ করেছেন।

অভিযোগের সূত্রপাত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আজিম মিঞার জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ফরহাদ মৃত লোকমানের ছেলে এবং এলাকায় ‘ভূমিদস্যু ফরহাদ’ নামে পরিচিত বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ফরহাদ তাঁর জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

হুমকির অভিযোগে ফরহাদের কাছে জবাব চাইলেন আজিম মিঞা

আজিম মিঞার অভিযোগ, আফ্রিদি আহমেদ ফয়সাল তাঁর ছোট ভাই। আফ্রিদির বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তিনি ফরহাদের কাছে জানতে চান। জবাবে ফরহাদ তাঁর সঙ্গে চাচাতো ভাইয়ের কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন।

এরপর আজিম মিঞা প্রশ্ন করেন, তাঁর জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত, এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর কেন তাঁকে এ ধরনের গালাগাল ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে? এ বিষয়ে ফরহাদের বক্তব্য কী, তা জানতে চান তিনি।

আজিম মিঞার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের মূল প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ফরহাদ কথোপকথনে অন্য প্রসঙ্গ সামনে আনেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিম মিঞা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের মূল বিষয়টি এড়িয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “তুমি আমার জমিতে বাউন্ডারি কেন নির্মাণ করলে? আমি এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চাই।”

আগেও গালাগালের অভিযোগ

আজিম মিঞার দাবি, আফ্রিদি আহমেদ ফয়সাল এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে গালাগাল করেছেন। এসব ঘটনার স্ক্রিনশটও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আফ্রিদির সঙ্গে এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কথিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ওঠাবসা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আজিম মিঞা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

আবু সাঈদ কনভেনশন হলের ঘটনায় জিডির দাবি

এর আগে আবু সাঈদ কনভেনশন হলে নোয়াখালী জেলা সমিতির একটি অনুষ্ঠানে ফরহাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আজিম মিঞাকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজিম মিঞার অভিযোগ, জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ নিয়ে প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বিরোধের মাত্রা বেড়েছে। সর্বশেষ আফ্রিদির বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ সামনে আসায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জমির বিরোধের নিষ্পত্তি হোক আইন অনুযায়ী

সাংবাদিক আজিম মিঞা জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের বৈধতা ও কারণ সম্পর্কে ফরহাদের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করেছেন। একই সঙ্গে আফ্রিদির বিরুদ্ধে ওঠা গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে মালিকানার দলিল, প্রাসঙ্গিক নথি ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য হলে সেটিও আইনগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রতিবেদনের বক্তব্য: জমির বাউন্ডারি নিয়ে বিরোধের মূল প্রশ্নের জবাব এবং হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত—দুটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রামাণ্য নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।

নোট: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সাংবাদিক আজিম মিঞার বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। মোহাম্মদ ফরহাদ ও আফ্রিদি আহমেদ ফয়সালের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জমির বাউন্ডারি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি? সৌদি প্রবাসী আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নিজ জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাংবাদিক মোহাম্মদ আজিম মিঞাকে সৌদি আরব থেকে মেসেঞ্জারে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আফ্রিদি আহমেদ ফয়সালের বিরুদ্ধে। গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক আজিম মিঞা। তাঁর ভাষ্য, হুমকি ও গালাগালসংক্রান্ত কথোপকথনের স্ক্রিনশট তিনি সংরক্ষণ করেছেন।

অভিযোগের সূত্রপাত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আজিম মিঞার জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ফরহাদ মৃত লোকমানের ছেলে এবং এলাকায় ‘ভূমিদস্যু ফরহাদ’ নামে পরিচিত বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ফরহাদ তাঁর জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

হুমকির অভিযোগে ফরহাদের কাছে জবাব চাইলেন আজিম মিঞা

আজিম মিঞার অভিযোগ, আফ্রিদি আহমেদ ফয়সাল তাঁর ছোট ভাই। আফ্রিদির বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তিনি ফরহাদের কাছে জানতে চান। জবাবে ফরহাদ তাঁর সঙ্গে চাচাতো ভাইয়ের কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন।

এরপর আজিম মিঞা প্রশ্ন করেন, তাঁর জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত, এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর কেন তাঁকে এ ধরনের গালাগাল ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে? এ বিষয়ে ফরহাদের বক্তব্য কী, তা জানতে চান তিনি।

আজিম মিঞার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের মূল প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ফরহাদ কথোপকথনে অন্য প্রসঙ্গ সামনে আনেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিম মিঞা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের মূল বিষয়টি এড়িয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “তুমি আমার জমিতে বাউন্ডারি কেন নির্মাণ করলে? আমি এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চাই।”

আগেও গালাগালের অভিযোগ

আজিম মিঞার দাবি, আফ্রিদি আহমেদ ফয়সাল এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে গালাগাল করেছেন। এসব ঘটনার স্ক্রিনশটও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আফ্রিদির সঙ্গে এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কথিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ওঠাবসা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আজিম মিঞা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

আবু সাঈদ কনভেনশন হলের ঘটনায় জিডির দাবি

এর আগে আবু সাঈদ কনভেনশন হলে নোয়াখালী জেলা সমিতির একটি অনুষ্ঠানে ফরহাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আজিম মিঞাকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজিম মিঞার অভিযোগ, জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ নিয়ে প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বিরোধের মাত্রা বেড়েছে। সর্বশেষ আফ্রিদির বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ সামনে আসায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জমির বিরোধের নিষ্পত্তি হোক আইন অনুযায়ী

সাংবাদিক আজিম মিঞা জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের বৈধতা ও কারণ সম্পর্কে ফরহাদের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করেছেন। একই সঙ্গে আফ্রিদির বিরুদ্ধে ওঠা গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে মালিকানার দলিল, প্রাসঙ্গিক নথি ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য হলে সেটিও আইনগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রতিবেদনের বক্তব্য: জমির বাউন্ডারি নিয়ে বিরোধের মূল প্রশ্নের জবাব এবং হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত—দুটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রামাণ্য নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।

নোট: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সাংবাদিক আজিম মিঞার বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। মোহাম্মদ ফরহাদ ও আফ্রিদি আহমেদ ফয়সালের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা উচিত।