সর্প হয়ে দংশন, আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ফুঁক — বেগমগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আতঙ্কের আরেক নাম পলাশ মেম্বার!
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার ১০ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যেন আজ এক অঘোষিত ভয়ের জনপদে পরিণত হয়েছে। এলাকাজুড়ে বিতর্কিত ওয়ার্ড প্রতিনিধি পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। কবরের উপর ভবন নির্মাণ, ঘুষ বাণিজ্য, জুয়া ও মাদকসেবীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং মানবিক উদ্যোগে বাধা—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর কাছে তিনি এখন আতঙ্কের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, “সর্প হয়ে দংশন করে, আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ফুঁক করে” — এটাই যেন পলাশ মেম্বারের রাজনৈতিক ও সামাজিক চরিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। একদিকে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি, অন্যদিকে সেই সমস্যার সমাধানকারী সেজে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন তিনি।
এলাকাবাসীর অনেকেই দাবি করেন, পলাশ মেম্বারের চোখ যেন সবসময় আগুনের মতো লাল হয়ে থাকে। বাহ্যিকভাবে যেমন কালো পোশাক ও কালো লুঙ্গি উল্টিয়ে দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করেন, তেমনি ভেতরেও তার চরিত্র আরও ভয়ংকর অন্ধকারে ঘেরা—এমনটাই মন্তব্য স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখেন।
স্থানীয়দের দাবি, তার কথিত “লাঠিয়াল বাহিনী”-র হাতে ইতোমধ্যে বহু মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছেন। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। কেউ কেউ সত্য বলতে চাইলেও নিজের নাম প্রকাশে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, এই ভয়ের সংস্কৃতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাই যেন অপরাধে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে মানবিক সংগঠন “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর অন্যায়, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা শুরু থেকেই পলাশ মেম্বারের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি সচেতন মহলের। কবরের উপর ভবন নির্মাণের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর উপর চাপ, হুমকি ও কার্যক্রম বন্ধ করার অপচেষ্টা আরও বেড়ে যায়।
গত ২৩ মে ২০২৬, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নতুন করে সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। অভিযোগ রয়েছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারিশ কামলা বাড়ির সাগরের ছেলে অনিককে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়, যেন সে মানবিক সংগঠন “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর সঙ্গে আর কোনো সম্পৃক্ততা না রাখে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, পলাশ মেম্বারের ইন্ধনে আসা বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অনিকের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে, যদি সে “প্রতিবাদী কণ্ঠ” সংগঠনের ব্যানারে ফুটবল খেলার আয়োজন চালিয়ে যায়। এই হুমকির পর অনিক ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
জানা গেছে, অনিক এলাকার তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ফুটবল খেলার আয়োজন করেছিলেন। অথচ খেলাধুলার মতো একটি ইতিবাচক ও সামাজিক উদ্যোগও সহ্য করতে পারেনি একটি স্বার্থান্বেষী মহল। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের ব্যবহার করে সেই মানবিক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করা হয়।
অনিকের বাবা সাগরের কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে এক অসহায় বাবার আতঙ্ক ও ক্ষোভ। তিনি বলেন, “ফুটবল খেলার জন্য আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে ফেলতে পারব না। একটি খেলাকে কেন্দ্র করে আমার ছেলের উপর এমন সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখন আমার ছেলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে আবার হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এই হামলার মূল নায়ক পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী গ্রুপ।”
তিনি আরও বলেন, “এখন আর কেউ যেন আমার ছেলেকে ফুটবল খেলার জন্য অনুরোধ না করে। কারণ একটি সামাজিক ও সুন্দর উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই আজ আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পলাশ মেম্বারের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে, যারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি, চাপ ও নির্যাতনের মাধ্যমে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই শুরু হয় হুমকি, হামলা ও অমানবিক আচরণের নীলনকশা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন— একজন জনপ্রতিনিধি যদি নিজেই মানুষের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ান, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়?
আজ এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন— অনিকের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে, ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ মানুষ এখন আর ভয়ের রাজত্ব নয়— ন্যায়, মানবিকতা ও সত্যের পক্ষে একটি নিরাপদ সমাজ চায়।























