প্লাস্টিক পাউডার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ধ্বংসের পথে অটো মোল্ডিং শিল্প।
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
নীরব কান্নায় শ্রমিক-মালিক, দেখার যেন কেউ নেই
ঢাকা মহানগরীর চকবাজার, ইসলামবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগ এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা শত শত প্লাস্টিক অটো মোল্ডিং কারখানা আজ চরম সংকটের মুখে। একদিকে কাঁচামাল প্লাস্টিক পাউডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের গুদামজাত কারসাজি—সব মিলিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আজ দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। গুদামজাত করে প্লাস্টিক পাউডারের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে সাধারণ কারখানা মালিকদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় প্রতিদিন লোকসানের বোঝা বাড়ছে।
কারখানা মালিকরা জানান,
“একদিকে দোকান ও কারখানার ভাড়া, অন্যদিকে শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, বাসা ভাড়া—সব মিলিয়ে টিকে থাকাই এখন যুদ্ধ। সিন্ডিকেটের কাছে আমরা অসহায়।”
শ্রমিকদের জীবনেও নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। বহু ছোট ও মাঝারি কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, বাজারে প্রকাশ্যে অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ফলে সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আক্ষেপ—
“আমরা কি এ দেশের নাগরিক না? আমাদের কান্না কি কেউ শুনবে না? সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি, অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত বাজার মনিটরিং, গুদামজাত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান এবং কাঁচামালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক শিল্প পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারও পথে বসবে।
আজ রাজধানীর পুরান ঢাকার অলিগলিতে ভেসে আসছে একটাই আর্তনাদ—
“সিন্ডিকেটের শিকল ভাঙুন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচান।”
প্রতিবাদী কণ্ঠ
“যেখানে সত্য থেমে যায়, সেখানেই প্রতিবাদী কণ্ঠ”



















