সর্বশেষ
শ্রীমঙ্গলে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী জুড়ীতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ, ইউএনও বরাবর আবেদন বাগেরহাট জেলায় অর্ধলক্ষ জনগোষ্ঠী বেকার যশোরে একাধিক মামলার আসামিকে হত্যা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি পিকআপে মিললো ৩৮৯ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ, আটক-১ তিন মাসেও আটক হয়নি ধর্ষণ মামলার আসামি, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভিকটিম বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হয়রাণী ও চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ ময়মনসিংহে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৫ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মসিকের নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

ঢাকার চকবাজারে ব্যবসার করুণ বাস্তবতা—ভ্যাট ট্যাক্স ও নানা খরচে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

চকবাজার প্রতিনিধি।
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র চকবাজার—যেখানে একসময় প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন হতো, আজ সেখানে নেমে এসেছে অদ্ভুত এক নীরবতা। দোকান খোলা থাকলেও নেই ক্রেতা, নেই সেই পুরনো কোলাহল। ব্যবসায়ীরা বসে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অথচ বিক্রি হচ্ছে না ন্যূনতম পণ্যও।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। অথচ খরচ কিন্তু থেমে নেই—মাস শেষে শ্রমিকের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া—সবকিছুই দিতে হচ্ছে নিয়মমাফিক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ব্যাড ট্যাক্স’, অতিরিক্ত লেভি, পরিবহন খরচ, গুদাম খরচসহ নানাবিধ অপ্রত্যাশিত ব্যয়। ফলে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন এক চরম আর্থিক চাপে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আগে দিনে ২০-৩০ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন ২-৩ হাজারও হয় না। এর উপর নতুন নতুন ট্যাক্স আর খরচ যোগ হয়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”
আরেকজন জানান, “ব্যবসা করে এখন শুধু খরচ মেটানোই কঠিন। লাভ তো দূরের কথা, টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন নামে অঘোষিত খরচ, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে বাজারে আস্থা কমে যাচ্ছে দিন দিন। অনেকেই এখন নতুন করে বিনিয়োগ করতেও ভয় পাচ্ছেন।
একসময় যেখানে সারা দেশ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভিড় করতেন, সেই চকবাজার আজ অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। অথচ এই বাজারের উপর নির্ভরশীল হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা এখন হুমকির মুখে।
ব্যবসায়ীরা এখন একটাই প্রশ্ন করছেন—
এই দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্তি কবে? বাজারে আবার কবে ফিরবে স্বাভাবিক গতি?
চকবাজারের নীরব দোকানগুলো যেন আজ সেই প্রশ্নই প্রতিধ্বনিত করছে—
একটি প্রশ্ন, যার উত্তর এখনো অজানা।
আর সেই অজানার মধ্যেই চলছে শত শত ব্যবসায়ীর নীরব কান্না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঢাকার চকবাজারে ব্যবসার করুণ বাস্তবতা—ভ্যাট ট্যাক্স ও নানা খরচে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১০:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র চকবাজার—যেখানে একসময় প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন হতো, আজ সেখানে নেমে এসেছে অদ্ভুত এক নীরবতা। দোকান খোলা থাকলেও নেই ক্রেতা, নেই সেই পুরনো কোলাহল। ব্যবসায়ীরা বসে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অথচ বিক্রি হচ্ছে না ন্যূনতম পণ্যও।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। অথচ খরচ কিন্তু থেমে নেই—মাস শেষে শ্রমিকের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া—সবকিছুই দিতে হচ্ছে নিয়মমাফিক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ব্যাড ট্যাক্স’, অতিরিক্ত লেভি, পরিবহন খরচ, গুদাম খরচসহ নানাবিধ অপ্রত্যাশিত ব্যয়। ফলে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন এক চরম আর্থিক চাপে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আগে দিনে ২০-৩০ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন ২-৩ হাজারও হয় না। এর উপর নতুন নতুন ট্যাক্স আর খরচ যোগ হয়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”
আরেকজন জানান, “ব্যবসা করে এখন শুধু খরচ মেটানোই কঠিন। লাভ তো দূরের কথা, টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন নামে অঘোষিত খরচ, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে বাজারে আস্থা কমে যাচ্ছে দিন দিন। অনেকেই এখন নতুন করে বিনিয়োগ করতেও ভয় পাচ্ছেন।
একসময় যেখানে সারা দেশ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভিড় করতেন, সেই চকবাজার আজ অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। অথচ এই বাজারের উপর নির্ভরশীল হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা এখন হুমকির মুখে।
ব্যবসায়ীরা এখন একটাই প্রশ্ন করছেন—
এই দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্তি কবে? বাজারে আবার কবে ফিরবে স্বাভাবিক গতি?
চকবাজারের নীরব দোকানগুলো যেন আজ সেই প্রশ্নই প্রতিধ্বনিত করছে—
একটি প্রশ্ন, যার উত্তর এখনো অজানা।
আর সেই অজানার মধ্যেই চলছে শত শত ব্যবসায়ীর নীরব কান্না।