সর্বশেষ
গনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জার্সি বিতরণ বাছুর আলগা (উত্তর) পীরপাল আদর্শ ক্বওমী মহিলা মাদরাসায় প্রথম সবক উদ্বোধন হালুয়াঘাটে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজগর এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হাসপাতালে ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতারা র‌্যাব-৭-এর অভিযানে বাকলিয়ায় নৃশংস হামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার* দক্ষিণ আইচায় মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ: প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অভিযুক্ত, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-৭ আসনে চকবাজার থানার ইসলাবাগ ছাতি মসজিদে জুমার নামাজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত স্কুলে গিয়ে প্রশাসক নন, শিক্ষক ইউএনও কাউসার রহমান—ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় বেগমগঞ্জ যশোরে বিজিবির অভিযানে ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১ ঢাকা লালবাগ-চকবাজারের ২৯ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগে জনতার ঢল — ভালোবাসায় সিক্ত কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ টিপু সুলতান

যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হাসপাতালে ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতারা

মোঃ আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

 

রাজধানীর শ্যামলীর সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কথিত নেতা মইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মধ্যরাতেই হাসপাতালে ছুটে যান কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, অভিযুক্ত মইন উদ্দিনের সঙ্গে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার দায় যুবদল নেবে না এবং দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন তারা।
চাঁদাবাজির ঘটনায় শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুরুতে ভয়ভীতি দেখানো হতো। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরাও তাকে ভয় পেত। সে অনেক লোকজন নিয়ে এসে নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিত। ফলে কিছু বলাও সম্ভব হতো না। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ডা. কামরুল ইসলাম আরও জানান, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে প্রায় ৪০০ জন স্টাফ কাজ করেন। স্বল্প বেতনে আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রোগীদের খাবারের কোনো বিল নেওয়া হয় না। হাসপাতালের ক্রয় কমিটিও অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।
এদিকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, মইন উদ্দিন নামে যুবদলের কোনো কর্মী নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে এমন অনেক অভিযোগ এসেছে, যার অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করা হয়েছে, কিন্তু তারা যুবদলের কেউ নয়।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবদলের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকতে পারে না। আমরা বিষয়টির দায়িত্ব নিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছেন। দ্রুতই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে দলবল নিয়ে হাজির হন স্থানীয় এক কথিত নেতা। সেখানে তিনি যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেন।
জানা গেছে, শুধু শুক্রবারই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হাসপাতাল থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। এছাড়া চাপ সৃষ্টি করতে ডা. কামরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে মব তৈরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হাসপাতালে ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতারা

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

রাজধানীর শ্যামলীর সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কথিত নেতা মইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মধ্যরাতেই হাসপাতালে ছুটে যান কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, অভিযুক্ত মইন উদ্দিনের সঙ্গে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার দায় যুবদল নেবে না এবং দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন তারা।
চাঁদাবাজির ঘটনায় শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুরুতে ভয়ভীতি দেখানো হতো। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরাও তাকে ভয় পেত। সে অনেক লোকজন নিয়ে এসে নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিত। ফলে কিছু বলাও সম্ভব হতো না। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ডা. কামরুল ইসলাম আরও জানান, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে প্রায় ৪০০ জন স্টাফ কাজ করেন। স্বল্প বেতনে আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রোগীদের খাবারের কোনো বিল নেওয়া হয় না। হাসপাতালের ক্রয় কমিটিও অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।
এদিকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, মইন উদ্দিন নামে যুবদলের কোনো কর্মী নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে এমন অনেক অভিযোগ এসেছে, যার অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করা হয়েছে, কিন্তু তারা যুবদলের কেউ নয়।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবদলের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকতে পারে না। আমরা বিষয়টির দায়িত্ব নিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছেন। দ্রুতই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে দলবল নিয়ে হাজির হন স্থানীয় এক কথিত নেতা। সেখানে তিনি যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেন।
জানা গেছে, শুধু শুক্রবারই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হাসপাতাল থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। এছাড়া চাপ সৃষ্টি করতে ডা. কামরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে মব তৈরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।