সর্বশেষ
চারঘাটে ৬০ গ্রাম হেরোইনসহ ২ জন গ্রেফতার গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় প্রস্তুতিমূলক সভা, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকা চকবাজারের বিশিষ্ট খেলনা ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদের পিত্তস্থলীতে পাথর অপারেশন আজ, সবার কাছে দোয়া কামনা কাচপুরের হাজী গরিবুল্লাহ রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে সাংবাদিকদের অসন্তোষ জমি নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষকে কোপানোর পর অন্য পক্ষের বাড়িঘরে লুট নালিতাবাড়ীতে যুবককে অটোতে তুলে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘রিপোর্টার্স প্রেসক্লাব গাইবান্ধা’র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দ কাজিপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিপদসংকুল আচরণের অভিযোগ

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই রাজধানীর পল্টনে হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
ডিবি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক খুব কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেশে আনা হয় মরদেহ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হাদির মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
ডিবির মন্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত। নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই রাজধানীর পল্টনে হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
ডিবি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক খুব কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেশে আনা হয় মরদেহ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হাদির মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
ডিবির মন্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত। নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।