নালিতাবাড়ীতে ‘ মাদক নির্মূল কমিটি’র নাম ব্যবহার করে দুই তরুণকে মারধরের অভিযোগ, গারো সম্প্রদায়ের গণপিটিশন
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র নাম ব্যবহার করে দুই তরুণকে আটকে মারধর, টাকা কেড়ে নেওয়া ও ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গণপিটিশন দিয়েছেন উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশূড়া গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। গণপিটিশন জমা দেওয়ার সময় সমশূড়া গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবারের নারী-পুরুষের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। গণপিটিশনে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশূড়া বাজার থেকে ধোপাকুড়া বাজারে অটোরিকশায় যাওয়ার পথে ময়দালীর বাড়ির কাছে জাহিদ ও আশিক ইসলাম নামের দুই তরুণকে আটক করেন কয়েকজন ব্যক্তি। তারা নিজেদের ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র সদস্য বলে পরিচয় দেন। এরপর ওই দুই তরুণ ও অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশি করে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এরপরও ওই দুই তরুণকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় এবং তাদের কাছে থাকা টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে গণপিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের মুঠোফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে তা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপিটিশনে চান মিয়া, ইউনুছ আলী ও মাহফুজসহ আরও ১৫ থেকে ১৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঘটনার পর তারা স্থানীয়ভাবে বিচার পাওয়ার আশায় সাত দিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় আজ তারা থানায় ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে প্রভাতী ম্রং, মেরিনা চিরান ও ঝর্ণা মারক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তারা বলেন, ঘটনার পর সাত দিন অপেক্ষা করেও তারা কোনো বিচার পাননি। তাই বাধ্য হয়ে প্রশাসনের কাছে গণপিটিশন দিয়েছেন। ঝর্ণা মারক বলেন, ‘আমরা সাত দিন অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। তাই আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির কাছে গণপিটিশন দিয়েছি। আগামীকাল সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী এলাকায় এলে তার কাছে আমরা গণপিটিশন জমা দেব। এলাকার সবাই সেখানে উপস্থিত থাকবেন। আমরা তার কাছেও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইব।’ থানায় গণপিটিশন জমা দেওয়ার সময় নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান অভিযোগটি গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করার এবং ঘটনার সঠিক তথ্য বের করার নির্দেশ দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে কোনো মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য নন। তাদের এলাকায় এ ধরনের কোনো কমিটি নেই। ওই নাম ও পরিচয় ব্যবহার করেই তারা দুই তরুণকে আটক ও মারধর করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমশূড়া গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
















