সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

সন্তান জন্মের দুদিন পর হাসপাতালের শয্যায় এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থী ঈশা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

সন্তান জন্মের মাত্র দুই দিন পর হাসপাতালের শয্যায় বসেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ঈশা আলম (১৯) নামের এক সাহসী শিক্ষার্থী। স্বামী ও স্বজনদের অনুপ্রেরণায় মনোবল হারাননি তিনি। গর্ভকালীন সময়েই নিয়েছিলেন পরীক্ষার প্রস্তুতি, আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে পৌঁছে দেয় পরীক্ষার হলে—যদিও সেটি ছিল একটি হাসপাতালের শয্যা।

রোববার (২৯ জুন) শরীয়তপুর শহরের নিপুণ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিকের একটি কক্ষে, বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন ঈশা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল।

জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার পশ্চিম কাশাভোগ এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান তুষারের স্ত্রী ঈশা আলম। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন শরীয়তপুর সরকারি কলেজে। চলতি এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজ।

গত বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হয়। রাতেই তাকে শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সফল সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান।

পরবর্তী পরীক্ষাটি ছিল রোববার। সদ্য সন্তান জন্মদানের পরপরই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ঈশার পক্ষে খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টি লিখিতভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে, আবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে ঈশার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালের কক্ষে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন একজন শিক্ষিকা ও একজন নারী পুলিশ সদস্য। পরীক্ষার সময় সদ্যোজাত কন্যাসন্তানটি ছিল তার দাদির কোলে।

ঈশা বলেন, “সন্তান গর্ভে থাকতেই আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কঠিন সময় এলেও মনোবল হারাইনি। পরিবারের সহায়তা ও সাহস আমাকে পরীক্ষায় বসার শক্তি দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মেয়ে চাইলে সবকিছু জয় করতে পারে।”

সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল বলেন, “একজন মায়ের অদম্য প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে আমরা তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ করি। মানবিক বিবেচনায় আমরা চাই, সে যেন উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশের একজন ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সন্তান জন্মের দুদিন পর হাসপাতালের শয্যায় এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থী ঈশা

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

সন্তান জন্মের মাত্র দুই দিন পর হাসপাতালের শয্যায় বসেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ঈশা আলম (১৯) নামের এক সাহসী শিক্ষার্থী। স্বামী ও স্বজনদের অনুপ্রেরণায় মনোবল হারাননি তিনি। গর্ভকালীন সময়েই নিয়েছিলেন পরীক্ষার প্রস্তুতি, আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে পৌঁছে দেয় পরীক্ষার হলে—যদিও সেটি ছিল একটি হাসপাতালের শয্যা।

রোববার (২৯ জুন) শরীয়তপুর শহরের নিপুণ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিকের একটি কক্ষে, বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন ঈশা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল।

জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার পশ্চিম কাশাভোগ এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান তুষারের স্ত্রী ঈশা আলম। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন শরীয়তপুর সরকারি কলেজে। চলতি এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজ।

গত বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হয়। রাতেই তাকে শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সফল সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান।

পরবর্তী পরীক্ষাটি ছিল রোববার। সদ্য সন্তান জন্মদানের পরপরই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ঈশার পক্ষে খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টি লিখিতভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে, আবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে ঈশার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালের কক্ষে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন একজন শিক্ষিকা ও একজন নারী পুলিশ সদস্য। পরীক্ষার সময় সদ্যোজাত কন্যাসন্তানটি ছিল তার দাদির কোলে।

ঈশা বলেন, “সন্তান গর্ভে থাকতেই আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কঠিন সময় এলেও মনোবল হারাইনি। পরিবারের সহায়তা ও সাহস আমাকে পরীক্ষায় বসার শক্তি দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মেয়ে চাইলে সবকিছু জয় করতে পারে।”

সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল বলেন, “একজন মায়ের অদম্য প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে আমরা তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ করি। মানবিক বিবেচনায় আমরা চাই, সে যেন উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশের একজন ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”