সুন্নীয়াতের প্রচার-প্রসার ও মানবসেবায় নিবেদিত মাওলানা সেলিম হোসাইন আল ক্বাদেরী
- আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
ইসলামের সুমহান আদর্শ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও সুন্নীয়াতের প্রচার-প্রসারের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, যুবসমাজকে সৎপথে পরিচালিত করা এবং মানবসেবামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছেন নাসাব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সেলিম হোসাইন আল ক্বাদেরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে সুন্নীয়াতের কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি আদর্শ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ, সাদেকপুর ও বড়াইল ইউনিয়নের যুবসমাজ, তরুণ আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং সুন্নীয়াতের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে গঠিত হয়েছে নাসাব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূল পরিষদ ও যুবপরিষদ।
সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ও আকিদার প্রচার-প্রসার, দ্বীনি কার্যক্রমকে বেগবান করা এবং নতুন প্রজন্মকে ইসলামের শিক্ষা, নৈতিকতা ও সুন্নীয়াতের খেদমতে উদ্বুদ্ধ করা। পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসা ও এতিমখানা
মাওলানা সেলিম হোসাইন আল ক্বাদেরীর দ্বীনি খেদমতের অন্যতম দিক হলো ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও এতিম শিশুদের কল্যাণে উদ্যোগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল বাজারে তাঁর পরিচালনায় রয়েছে একটি সুন্নী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা।
প্রতিষ্ঠানটিতে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তার, হিফজ কার্যক্রম পরিচালনা এবং এতিম শিশুদের শিক্ষা ও লালন-পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসলামে কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একইভাবে এতিমদের প্রতি সদয় আচরণ, তাদের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাজ করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পবিত্র কোরআনে এতিমের প্রতি সদাচরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তুমি এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না।’ (সুরা আদ-দুহা, আয়াত: ৯)। ইসলামের এই মানবিক শিক্ষা অনুসরণ করে এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
যুবসমাজকে দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ
বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নাসাব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের যুবপরিষদকে কার্যকর ভূমিকা পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের দ্বীনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করার প্রত্যাশা রয়েছে।
মাওলানা সেলিম হোসাইন আল ক্বাদেরীর সাংগঠনিক উদ্যোগের লক্ষ্য তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বৃহত্তর পরিসরে সুন্নীয়াতের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, যুবসমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রত্যাশা।
ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা
ইসলাম মানুষকে ন্যায়, কল্যাণ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় আদর্শের চর্চার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা দ্বীনি দায়িত্বেরই অংশ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, এতিম শিশুদের কল্যাণ এবং ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রমকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মাওলানা মোহাম্মদ সেলিম হোসাইন আল ক্বাদেরীর প্রত্যাশা, সুন্নীয়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে। আগামী প্রজন্ম দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত হবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতায় সমৃদ্ধ হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে এ ধরনের উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে আলেম-ওলামা, অভিভাবক, যুবসমাজ ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্বীনি শিক্ষা, এতিমদের কল্যাণ এবং মানবসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে।
মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা, তিনি মাওলানা মোহাম্মদ সেলিম হোসাইন আল ক্বাদেরীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের খেদমত ও মানবকল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করুন। তাঁদের নেক প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করুন। আমিন।



















